সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১১:০৯ পূর্বাহ্ন, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কেন দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে ভোট দেয়নি ইরান?

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব বিপুল ভোটে অনুমোদন পেয়েছে। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে সাধারণ পরিষদের ১৪২টি দেশ। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে মাত্র ১০টি দেশ। তাদের মধ্যে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে। ভোটদানে বিরত ছিল ১২টি দেশ।  এর মধ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানও রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম মুসলিম প্র্রধান দেশ হয়েও […]

কেন দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে ভোট দেয়নি ইরান?
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব বিপুল ভোটে অনুমোদন পেয়েছে। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে সাধারণ পরিষদের ১৪২টি দেশ। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে মাত্র ১০টি দেশ। তাদের মধ্যে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে। ভোটদানে বিরত ছিল ১২টি দেশ।  এর মধ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানও রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম মুসলিম প্র্রধান দেশ হয়েও ইরান কেন ভোটদান থেকে বিরত ছিল-তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।  এ বিষয়ে তেহরান বলছে, টেকসই শান্তি আসতে পারে কেবল একটি স্বাধীন গণভোটের মাধ্যমে—যেখানে মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান ও শরণার্থীরা অংশ নেবে—কোনও চাপিয়ে দেওয়া দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নয়। 

এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিক হলো—

১. এই প্রস্তাব এমন একটি পরিকল্পনাকে সমর্থন করে, যা দখলকৃত ভূখণ্ডে ইসরাইলকেও রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ইরানের জন্য এটি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ ইরান ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের একটি অংশ  তেল আবিবকে দেওয়া মেনে নেয় না।  একইসঙ্গে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের কোনো ভিত্তি নেই, কেননা নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র বারবারই এতে ভেটো দিয়ে আসছে। 

২.ফ্রান্স ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জাতিসংঘে উত্থাপিত এই প্রস্তাব, যদিও ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র’ নামে একটি রাষ্ট্র গঠনের সমর্থন দেয় বলে দেখা হচ্ছে, কিন্তু আসলে এটি হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার ইচ্ছা রাখে। এই স্বায়ত্তশাসিত সরকার পশ্চিমা বিশ্বের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হলেও ফিলিস্তিনি জনগণের কাছে অবিশ্বস্ত, কারণ এটি কখনো ইহুদিবাদী সরকারের হাতে ফিলিস্তিনিদের গণহত্যা মোকাবিলায় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

৩. দখলকৃত ভূখণ্ডে যেকোনো স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন অবশ্যই প্রধান অধিবাসীদের  ইচ্ছার ভিত্তিতে হতে হবে—যারা মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টান। ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী এটি একটি স্বাধীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণভোটের মাধ্যমে হতে হবে। ইরানের এই প্রস্তাব জাতিসংঘে নথিভুক্ত রয়েছে (S/2019/862 P)। এতে বলা হয়েছে, দখলকৃত অঞ্চলের সব বাসিন্দা—মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান, এমনকি ফিলিস্তিনের বাইরে জর্ডান বা লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে বসবাসরত শরণার্থীরাও ভোটাধিকার পাবে এবং গণভোটের মাধ্যমে দখলকৃত অঞ্চলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ করবে। 

এটি একটি ন্যায্য পদ্ধতি, যা দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের যুগে প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং ফলপ্রসূ হয়েছিল। দীর্ঘ সংগ্রামের পর দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণ গণভোটের মাধ্যমে বর্ণবৈষম্যমূলক শাসন বিলুপ্ত করে এবং একটি মুক্ত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে। একই পদ্ধতি দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেও প্রয়োগ করা যেতে পারে। তাই ইরান, পশ্চিমা দেশগুলোর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে গঠিত এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। 

৪. এখন প্রশ্ন উঠতে পারে ইরানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো নিশ্চয়তা নেই।  এর জবাব হলো-দখলকৃত ভূখণ্ডে দ্বি-রাষ্ট্র  প্রতিষ্ঠার চেয়ে ইরানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ভিত্তি অনেক বেশি শক্তিশালী। ১৯৪৮ সালে ইহুদিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছে, কিন্তু ইসরাইলের  বিরোধিতা এবং পশ্চিমা বিশ্বের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের এতে সমর্থনের কারণে এটি কখনও বাস্তবায়িত হয়নি। 

৫.একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য চারটি মৌলিক উপাদান প্রয়োজন: ভূখণ্ড, জনগোষ্ঠী, সরকার এবং সার্বভৌমত্ব।  কিন্ত ইসরাইলি সরকার ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড, সরকার এবং সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে না, বরং গণহত্যার মাধ্যমে এই ভূমি থেকে জনসাধারণকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক দেশান্তরে বাধ্য করছে।  দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থনকারী সরকারগুলো, বিশেষ করে ফ্রান্সের প্রথমে ইসরাইলি শাসনকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের এই চারটি উপাদান মেনে নিতে বাধ্য করা, তারপর দ্বি-রাষ্ট্র পরিকল্পনাকে সমর্থন করা উচিত। 

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ