যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। সংস্থাটির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে শহরজুড়ে অপরাধের হার এতটাই হ্রাস পেয়েছে যে চলতি বছরকে রেকর্ড অনুযায়ী নিউইয়র্কের ইতিহাসের অন্যতম নিরাপদ বছর হিসেবে উল্লেখ করছে তারা। এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত নিউইয়র্কে মোট ৩৮১টি গুলির ঘটনা এবং […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। সংস্থাটির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে শহরজুড়ে অপরাধের হার এতটাই হ্রাস পেয়েছে যে চলতি বছরকে রেকর্ড অনুযায়ী নিউইয়র্কের ইতিহাসের অন্যতম নিরাপদ বছর হিসেবে উল্লেখ করছে তারা।
এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত নিউইয়র্কে মোট ৩৮১টি গুলির ঘটনা এবং ১৪৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের অন্যতম।
শুধু জুলাই মাসেই বড় ধরনের অপরাধের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতেই অপরাধের হার কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উন্নতি হয়েছে ব্রঙ্কসে, যেখানে বড় ধরনের অপরাধ প্রায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, তথ্যভিত্তিক পুলিশিং, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত টহল বৃদ্ধির ফলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
তার ভাষায়, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ধারাবাহিক অভিযান এবং সহিংস অপরাধপ্রবণ গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা অপরাধ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই শহরজুড়ে ২ হাজার ৫০০টিরও বেশি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে একাধিক বিশেষ যৌথ অভিযানও পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে সামগ্রিক অপরাধ কমলেও দুটি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এনওয়াইপিডি।
প্রথমত, নিউইয়র্কের সাবওয়ে ও গণপরিবহন ব্যবস্থায় কিছু ধরনের অপরাধ বেড়েছে। বিশেষ করে যাত্রীদের ওপর হামলা এবং চুরির ঘটনায় বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
দ্বিতীয়ত, বিদ্বেষমূলক অপরাধ (Hate Crime)-এর সংখ্যাও বেড়েছে। ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপরাধ এখনো পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, পরিসংখ্যান যতই ইতিবাচক হোক, সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবার পুলিশের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই শহরকে আরও নিরাপদ করতে সাবওয়ে নিরাপত্তা জোরদার এবং বিদ্বেষমূলক অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ কমানোর বর্তমান ধারা ধরে রাখার পাশাপাশি নিউইয়র্কবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এনওয়াইপিডির প্রধান অগ্রাধিকার।
সূত্র: নিউইয়র্ক প্রতিনিধি