দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, একাধিক কারিগরি যাচাই এবং নিরাপত্তা–সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট কমিশনিং লাইসেন্স পেয়েছে। এর ফলে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করার পথ খুলে গেল। বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ফলে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহেই প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং […]
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, একাধিক কারিগরি যাচাই এবং নিরাপত্তা–সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট কমিশনিং লাইসেন্স পেয়েছে। এর ফলে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করার পথ খুলে গেল। বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ফলে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহেই প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সব ধরনের ছাড়পত্র ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর এই কমিশনিং লাইসেন্স হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে ৭ এপ্রিল জ্বালানি লোডিংয়ের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হলেও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বিষয় পুরোপুরি সন্তোষজনক না হওয়ায় সেটি পিছিয়ে যায়। পরে সংশোধিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কারিগরি পরীক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মান যাচাইয়ের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদন দেয়।
নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল প্রধান বিবেচ্য বিষয়। ঘনবসতিপূর্ণ দেশে পারমাণবিক স্থাপনা পরিচালনায় কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই সব সমালোচনামূলক বিষয় সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এখন পরিস্থিতি সন্তোষজনক হওয়ায় সবাই একমত হয়েছেন যে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু করা যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি লোডিং হলো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। রিয়্যাক্টরের কোরে ইউরেনিয়াম ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপনের পর ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে জ্বালানি লোডিংয়ের প্রায় তিন মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু হওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। রাশিয়ার রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় নির্মিত কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ দশমিক ৪ গিগাওয়াট। প্রতিটি ইউনিট থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। প্রথম ইউনিট চালু হওয়ার পর দেশের বিদ্যুৎ খাতে এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালে প্রথম ইউনিট এবং ২০২৫ সালে দ্বিতীয় ইউনিট হস্তান্তরের লক্ষ্য থাকলেও নানা কারিগরি ও অবকাঠামোগত কারণে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রথম ইউনিটের কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ায় প্রকল্পটি এখন বাস্তব বিদ্যুৎ উৎপাদনের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।