কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের একজন সদস্য কলকাতায় পৌঁছেছেন। শুক্রবার […]
ছবি: সংগৃহীত
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের একজন সদস্য কলকাতায় পৌঁছেছেন। শুক্রবার তার পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। অন্য নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এখনো কলকাতায় পৌঁছাননি। তারা পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আগুনে কয়েকজনের পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় নিশ্চিতকরণ ও মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হোটেলের তৃতীয় তলার রিসেপশনে থাকা একটি এয়ার কন্ডিশনারের কিছু অংশ ফুলে উঠেছিল। প্রাথমিকভাবে সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে দ্রুত ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ঘন ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধে নয়জনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি।
এ ঘটনায় হোটেলের লিজহোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। হোটেলের ম্যানেজার ও এক কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমিন, তাদের শিশুসন্তান এবং আফসানার বাবা মো. আকরাম আলী এ ঘটনায় নিহত হন। একই ঘটনায় আরও তিন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে কুষ্টিয়ায় দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। তার সাত বছর বয়সী মেয়ে মহিমার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কুষ্টিয়ার এডুকেয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ। বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেল দেবাশীষের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং মহিমাকে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা খরচে পড়ানোর দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান।
দেবাশীষের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বুধবারই চিকিৎসা শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। তার আগেই কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হয়।
দেবাশীষের শ্বশুরবাড়ির সদস্যরাও কলকাতায় মরদেহ দেশে ফেরানোর আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার বিকেলের মধ্যে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ দেশে পৌঁছাতে পারে।
‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুনে মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি এবং দুজন ভারতীয় নাগরিক। অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার কারণ এবং ভবনটির নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে।