সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

খেলাধুলা
৩:৫১ পূর্বাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

কেপ ভার্দে: বাংলাদেশের পর আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ খেলবে ২০২৬ সালে

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় মঞ্চ ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট এখন নতুন এক ছোট্ট দেশকে নিয়ে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বাংলাদেশ যেভাবে ১৯৭৪ সালে ফিফার সদস্য হয়েছিল, ঠিক একইভাবে কেপ ভার্দে নামের এই আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্রও এবার তাদের প্রথমবারের মতো ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলার অধিকার অর্জন করেছে। কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রার পেছনের গল্প ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা লাভের পর দীর্ঘ […]

কেপ ভার্দে: বাংলাদেশের পর আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ খেলবে ২০২৬ সালে
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় মঞ্চ ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট এখন নতুন এক ছোট্ট দেশকে নিয়ে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বাংলাদেশ যেভাবে ১৯৭৪ সালে ফিফার সদস্য হয়েছিল, ঠিক একইভাবে কেপ ভার্দে নামের এই আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্রও এবার তাদের প্রথমবারের মতো ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলার অধিকার অর্জন করেছে।

কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রার পেছনের গল্প

১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা লাভের পর দীর্ঘ ১১ বছর অপেক্ষার পর ১৯৮৬ সালে ফিফার সদস্যপদ লাভ করে কেপ ভার্দে। তখন থেকেই ফুটবলের উন্নয়নে ধাপে ধাপে এগিয়েছে এই জাতীয় দল। মোট জনসংখ্যা প্রায় ৬ লাখের মতো হলেও, ফুটবল নিয়ে তাদের আগ্রহ ও প্রতিভা বিশ্বমঞ্চে নিজের স্থান তৈরি করেছে।

সোমবার অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বের ম্যাচে এসওয়াতিনিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তারা নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের টিকিট। এই জয়ের মাধ্যমে কেপ ভার্দে আফ্রিকার ‘ডি’ গ্রুপে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। তাদের সংগ্রহ ২৩ পয়েন্ট, যা দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী ক্যামেরুনের ১৯ পয়েন্টের থেকে অনেকটাই এগিয়ে।

ছোট একটি দেশ, বড় একটি কৃতিত্ব

বিশ্বকাপ খেলতে নামা দেশগুলোর মধ্যে কেপ ভার্দে এখন জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এর আগে আইসল্যান্ড ছিল সবচেয়ে ছোট জনসংখ্যার দেশ, যার জনসংখ্যা প্রায় ৩.৫ লাখ। কেপ ভার্দের জনসংখ্যা প্রায় ৫.৫ লাখ, যা তাদেরকে ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ স্থান দিয়েছে।

কেপ ভার্দের কোচ পেদ্রো ব্রিতো এই অর্জনকে দেশের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সাফল্য কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মত ব্যক্ত করেছেন তিনি।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও দলে বৈচিত্র্য

নিজেদের মাঠ প্রাইয়ায় ১৫ হাজার দর্শকের সামনে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে কেপ ভার্দে। ডেইলন লিভ্রামেন্টো ও উইলি সেমেডো দুই মিনিটের ব্যবধানে গোল করেন, যা ম্যাচের গতি নির্ধারণ করে দেয়। পরে যোগ করা সময়ে বদলি খেলোয়াড় স্টপিরাও তৃতীয় গোলটি করে দলকে জয়ী করে তোলে।

দলে বৈচিত্র্য লক্ষণীয়। অনেক খেলোয়াড় দেশের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, লিভ্রামেন্টো নেদারল্যান্ডসের রটারডামে জন্মগ্রহণ করেছেন, আর সেমেডো ফ্রান্সের প্যারিসের কাছাকাছি। এছাড়া দলের অন্যান্য সদস্যরা বিভিন্ন দেশের ক্লাবে খেলছেন, যেমন পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড, আমেরিকা, রাশিয়া, তুরস্ক ও সাইপ্রাস।

কঠিন শুরু, কিন্তু অবিশ্বাস্য পুনরুদ্ধার

বাছাইপর্বের শুরুতে কেপ ভার্দের পারফরম্যান্স তেমন ভালো ছিল না। প্রথম ম্যাচে অ্যাঙ্গোলার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র এবং পরের ম্যাচে ক্যামেরুনের কাছে বড় ব্যবধানে হারে তারা হতাশ করেছিল। তবে তারপরের পাঁচটি ম্যাচে তারা ধারাবাহিকভাবে জয় পেয়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করে।

বিশেষ করে ক্যামেরুনের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোলের জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। শেষের দুই ম্যাচে মাত্র তিন পয়েন্টের প্রয়োজন ছিল কেপ ভার্দের। লিবিয়ার সঙ্গে ৩-৩ ড্র করার পর এসওয়াতিনিকে হারিয়ে তারা বিশ্বকাপ খেলায় নিজেদের স্থান নিশ্চিত করে।

কোচ পেদ্রো ব্রিতোর অবদান

৫৫ বছর বয়সী পেদ্রো ব্রিতো, যিনি ‘বুবিস্তা’ নামে পরিচিত, ২০২০ সাল থেকে দলের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করছেন। তার অধীনে কেপ ভার্দে টানা দুইবার আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে অংশগ্রহণ করেছে এবং দুবারেই শেষ ষোলোর মধ্যে প্রবেশ করেছে। যদিও তারা ২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে স্থান পায়নি, তবুও কর্তৃপক্ষ তার প্রতি আস্থা রেখেছে, যা এই সাফল্যের পেছনে অন্যতম কারণ।

বাংলাদেশের জন্য প্রেরণা, ভারতের জন্য একবার ভাবার বিষয়

বাংলাদেশের মতো দেশে ফুটবল এখনো অনেক দূর এগোতে হবে। ১৯৭৪ সালে ফিফায় যোগ দেয়ার পরেও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়নি। তবে প্রতিবেশী ভারত, যারা স্বাধীনতার ৭৮ বছর পেরিয়েও বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি, তাদের জন্য এটি এক ধরণের সতর্কবার্তা। ছোট একটি দেশও সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ মঞ্চে উঠতে পারে।

কেপ ভার্দের এই সাফল্য দেখায় যে ফুটবলে বড় দেশ না হওয়াই সব কিছু নয়। সঠিক নেতৃত্ব, পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের আত্মত্যাগের মাধ্যমে বিশ্বের সেরা টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অংশগ্রহণ দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতিতে নতুন প্রেরণা যোগাবে, যুবকদের মধ্যে ফুটবল এবং অন্যান্য খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের পরিচিতি বৃদ্ধি পাবে, যা পর্যটন ও অর্থনীতির উন্নয়নেও সাহায্য করতে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ