দল থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য (এমপি) পদ বহাল থাকবে কি না—এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, শুধু কোনো রাজনৈতিক দলের বহিষ্কারপত্রের ভিত্তিতে তারা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বিষয়টি জাতীয় সংসদের স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে রেফার করলে আইন অনুযায়ী শুনানি ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর […]
ছবি: সংগৃহীত
দল থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য (এমপি) পদ বহাল থাকবে কি না—এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, শুধু কোনো রাজনৈতিক দলের বহিষ্কারপত্রের ভিত্তিতে তারা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বিষয়টি জাতীয় সংসদের স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে রেফার করলে আইন অনুযায়ী শুনানি ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল কোনো সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করলেই নির্বাচন কমিশন তার সদস্যপদ বাতিল করতে পারে না। বিষয়টি যদি বিতর্কের সৃষ্টি করে এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার বা সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়, তাহলে কমিশন আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শুনানি ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। প্রয়োজনীয় রেফারেন্স পেলে সেই বিধান অনুযায়ী কমিশন ব্যবস্থা নেবে।
গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে থাকা নারীকে নিয়ে শুরুতে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। পরে নিজের ফেসবুক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়েছে।
ঘটনার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলে বুধবার দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্তে বিয়ের আগে সংশ্লিষ্ট নারীর সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা দলীয় নীতিমালার পরিপন্থী। পাশাপাশি এ ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে। তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এমপি পদের বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য প্রয়োজন হবে জাতীয় সংসদের স্পিকারের আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া।