হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বর্ণসহ অবৈধ পণ্য চোরাচালান ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে বিমানবন্দরে চলাচলকারী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকেও। সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দর থেকে একের পর এক স্বর্ণের চালান আটকের পর চোরাচালান প্রতিরোধে এই বাড়তি তৎপরতা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা কাস্টমস হাউসের […]
ছবি: সংগৃহীত
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বর্ণসহ অবৈধ পণ্য চোরাচালান ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে বিমানবন্দরে চলাচলকারী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকেও।
সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দর থেকে একের পর এক স্বর্ণের চালান আটকের পর চোরাচালান প্রতিরোধে এই বাড়তি তৎপরতা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মশিউর রহমান।
এর আগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইট থেকে ৯ কেজির বেশি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। ওই ঘটনার পরই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
মশিউর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনাগুলোর পর কাস্টমসের পক্ষ থেকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থাও চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করছে। সরকারের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবেই এই তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাস্টমস কমিশনার বলেন, চোরাকারবারীরা সময়ের সঙ্গে পণ্য পাচারের নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে। তবে নজরদারি শক্তিশালী থাকায় এসব চালান শনাক্ত ও আটক করা সম্ভব হচ্ছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় তিন মাসে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক কয়েকটি চালানে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে।
গত ২৮ মার্চ রাতে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেটের প্যানেলের ভেতর থেকে ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় লুকিয়ে রাখা ১৫৩টি বারে ছিল এসব স্বর্ণ। ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।
এরপর ২ জুলাই দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আরেকটি ফ্লাইটে ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম স্বর্ণের চালান ধরা পড়ে। ওই চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।
গত ১৯ জুলাই বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ফলের ক্যারেটের ভেতর থেকে আরও ১৬ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়।
সর্বশেষ ২ সেপ্টেম্বর রাতে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইট থেকে ৯ কেজির বেশি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এই চালানের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে কাস্টমস।
বিমানবন্দরে শুধু স্বর্ণ নয়, প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ ও অবৈধ পণ্য আটক করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে নিষিদ্ধ ক্রিম, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্য। এসব চালান ঠেকাতে বিমানবন্দরজুড়ে নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।