সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
৩:১৩ অপরাহ্ন, ২৭ জুলাই ২০২৬

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানির বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ নেতানিয়াহুর

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার দাবি, মামদানি তাকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং গাজা যুদ্ধের জেরে নিউইয়র্ক সফরে এলে তাকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের পরিকল্পনা রয়েছে নেতানিয়াহুর। রোববার (২৬ জুলাই) তিনি বলেন, মেয়র তাকে স্বাগত না […]

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানির বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ নেতানিয়াহুর
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার দাবি, মামদানি তাকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং গাজা যুদ্ধের জেরে নিউইয়র্ক সফরে এলে তাকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন।

আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের পরিকল্পনা রয়েছে নেতানিয়াহুর। রোববার (২৬ জুলাই) তিনি বলেন, মেয়র তাকে স্বাগত না জানালেও তিনি জাতিসংঘে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক যেতে চান।

গত বুধবার জোহরান মামদানি বলেন, নিউইয়র্ক সিটির নিজস্ব আইনি ক্ষমতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা সম্ভব নয়। তবে তিনি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, একজন মেয়রের দায়িত্ব হলো শহরের সব নাগরিকের—ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলিম—প্রতিনিধিত্ব করা। কিন্তু মামদানি একটি সম্প্রদায়কে অন্য একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সমালোচনা ক্রমেই বেড়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। পরবর্তীতে দক্ষিণ লেবানন এবং ইরানেও সামরিক অভিযান চালানো হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আনা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন অসদাচরণের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূল বিষয় থেকে দৃষ্টি সরানোর একটি চেষ্টা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি শিশু রয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি জোহরান মামদানির কার্যালয়।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি যে দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় সমর্থন ছিল, তা এখন ঝুঁকির মুখে। তার মতে, মামদানির মতো প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতাদের কারণে এই বিভাজন তৈরি হয়েছে। তিনি নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষ বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

২০২৫ সালের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনের প্রচারণায় মামদানি বলেছিলেন, গাজা যুদ্ধের কারণে আইসিসির জারি করা পরোয়ানা কার্যকরের জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। পরে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা অন্য কোনো পলাতক যুদ্ধাপরাধের অভিযুক্তকে নিউইয়র্কে স্বাগত জানানো হবে না।

বর্তমানে আইসিসি নেতানিয়াহু, তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং হামাসের এক প্রয়াত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার হবেন না।

সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। একই সফরে তিনি প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যেও অংশ নেবেন। গত ১১ জুলাই মারা যাওয়া গ্রাহামকে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের একজন মহান দেশপ্রেমিক এবং ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ