ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সফরে এলে তাঁর বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করার আহ্বান জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। মেয়রের এই আহ্বানে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা উল্লেখ করে গত বছরের নির্বাচনী প্রচারণার সময় মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে […]
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সফরে এলে তাঁর বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করার আহ্বান জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। মেয়রের এই আহ্বানে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা উল্লেখ করে গত বছরের নির্বাচনী প্রচারণার সময় মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের মতো আইনগত ক্ষমতা তাঁর নেই। এরপরই তিনি নগরবাসীকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মেয়রের এই অবস্থান নিয়ে পুলিশ মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। পুলিশ ইউনিয়নের নেতারা বলছেন, গ্রীষ্মজুড়ে ফিফা বিশ্বকাপ, এনবিএ ফাইনাল, স্বাধীনতা দিবস এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের মতো একের পর এক বড় আয়োজন সামলাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা আগে থেকেই অতিরিক্ত চাপে রয়েছেন। এর মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিক্ষোভের ডাক তাদের কাজ আরও কঠিন করে তুলবে।
পুলিশ বেনেভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্যাট্রিক হেনড্রি বলেন, মেয়রের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য এবং রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা পুলিশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। তাঁর মতে, এ ধরনের বক্তব্য সহিংস বা উগ্র আন্দোলনকারীদের আরও উসকে দিতে পারে এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
একজন ম্যানহাটন পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মেয়র এখন আর একজন সাধারণ কর্মী নন; তিনি শহরের প্রধান প্রশাসনিক দায়িত্বে আছেন। তাই আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্ব তাঁরই, অথচ তিনি নিজেই উসকানিমূলক অবস্থান নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ওই কর্মকর্তা।
এত সমালোচনা ও অতিরিক্ত কাজের চাপের মধ্যেও পুলিশ ইউনিয়নগুলো জানিয়েছে, আগামী শরতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে যেকোনো পরিস্থিতি পেশাদারভাবে মোকাবিলা করতে তারা প্রস্তুত।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট