বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার পর আবারো প্রাণ ফিরে এসেছে ক্রিকেটে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের টি-টোয়েন্টি সংস্করণ বৃষ্টির কারণে বাতিল হলেও, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ দিয়েই এই ঐতিহাসিক ভেন্যুতে ক্রিকেটের নতুন অধ্যায় শুরু হলো। প্রত্যেক কোণায় উচ্ছ্বাস আর আনন্দের ঢল বইছে, যা প্রমাণ করে বগুড়ার মানুষ কতটা অধীর আগ্রহে ক্রিকেটের […]
বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার পর আবারো প্রাণ ফিরে এসেছে ক্রিকেটে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের টি-টোয়েন্টি সংস্করণ বৃষ্টির কারণে বাতিল হলেও, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ দিয়েই এই ঐতিহাসিক ভেন্যুতে ক্রিকেটের নতুন অধ্যায় শুরু হলো। প্রত্যেক কোণায় উচ্ছ্বাস আর আনন্দের ঢল বইছে, যা প্রমাণ করে বগুড়ার মানুষ কতটা অধীর আগ্রহে ক্রিকেটের জন্য অপেক্ষা করছিল।
২০০৪ সালে যুব বিশ্বকাপে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের শুরু থেকেই এই স্টেডিয়াম উত্তরবঙ্গের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনের জায়গা করে নিয়েছিল। ২০০৬ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটের সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশের হয়ে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই মাঠে। একই বছরে ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার লড়াই ক্রিকেট ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান করে নিয়েছিল। তবে এরপর দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে দূরে থাকায় ক্রমশ ভাবমূর্তি হারিয়ে ফেলে।
বগুড়া স্টেডিয়ামে ক্রিকেটের দীর্ঘ বিরতির পেছনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা জটিলতা কাজ করেছিল। বিসিবির আগের কমিটি দীর্ঘ neglect-এর পর এবার এনসিএলের আগে মাঠের সম্পূর্ণ সংস্কার করে এক নতুন প্রাণ ঢেলে দিয়েছে। রঙ-তুলির ছোঁয়া, মেরামত ও পরিষ্কারের মাধ্যমে শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম যেন নতুন রূপে সজ্জিত হয়েছে।
এখন এই মাঠে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটাররা নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করার সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ম্যাচগুলো আগামী দিনের ক্রিকেট তারকারা গড়ার পথ সুগম করবে। এই উন্নয়ন শুধু বগুড়ার জন্য নয়, বরং পুরো উত্তরবঙ্গের জন্য এক বড় অগ্রগতি। ক্রিকেটের ফেরত এই উন্মাদনা শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্ম এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তুলবে।
দর্শকরা দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, এখন তাদের মুখে হাসি ফিরে এসেছে। স্থানীয় অর্থনীতিও এই ক্রিকেট উৎসব থেকে উপকৃত হবে, কারণ ম্যাচ চলাকালে উত্থান পাবে দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাত। এর ফলে বগুড়ার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও লাভবান হবে।
এই পুনরুজ্জীবিত ক্রিকেট ভেন্যু ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ম্যাচের আয়োজনের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা রাখছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিস্তার হবে দেশজুড়ে, বিশেষ করে রাজ্যের বাইরে থাকা অঞ্চলগুলোতেও