সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

খেলাধুলা
২:৪৩ অপরাহ্ন, ১২ আগস্ট ২০২৬

ভারতে মেসি ও আর্জেন্টিনার নামে ১৬০ কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগ

লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কেরালা সফরকে কেন্দ্র করে চালানো প্রচারণাকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছে ভারতের কেরালার নতুন সরকার। এ সফর আয়োজনের নামে প্রায় ১২৬ কোটি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। কেরালা সরকারের ক্রীড়া বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ক্রীড়ামন্ত্রী ও জে জানিশকে দেওয়া বিশেষ সচিব […]

ভারতে মেসি ও আর্জেন্টিনার নামে ১৬০ কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কেরালা সফরকে কেন্দ্র করে চালানো প্রচারণাকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছে ভারতের কেরালার নতুন সরকার। এ সফর আয়োজনের নামে প্রায় ১২৬ কোটি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

কেরালা সরকারের ক্রীড়া বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ক্রীড়ামন্ত্রী ও জে জানিশকে দেওয়া বিশেষ সচিব এন প্রশান্তের প্রতিবেদনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য মামলাটি ভিজিল্যান্স বিভাগ ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তরের কথাও বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

মেসি ও আর্জেন্টিনা দলের কেরালা সফরের প্রচারণার মূল উদ্যোক্তা ছিল ‘রিপোর্টার ব্রডকাস্টিং কোম্পানি’ (আরবিসি)। প্রতিষ্ঠানটির দাবি ছিল, সফরের জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) আগাম প্রায় ১২৬ কোটি রুপি দেওয়া হয়েছে।

তবে তদন্তে এ অর্থ পরিশোধের কোনো বৈধ নথি পাওয়া যায়নি। এএফএ অর্থ গ্রহণ করেছে—এমন কোনো প্রমাণও আরবিসি দেখাতে পারেনি।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, মেসিসহ আর্জেন্টিনা দলের কেরালা সফর নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র বা অনুমোদনের নথি ছিল না। এমনকি আরবিসি, এএফএ কিংবা কেরালা সরকারের মধ্যেও এ সফর নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।

বিদেশে অর্থ পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেনের অনুমতি চেয়েছিল আরবিসি। তবে অনুমতি পাওয়ার পর সেই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এএফএকে অর্থ পাঠানো হয়েছিল—এমন কোনো প্রমাণও তদন্তকারীদের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। ওই মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আর্থিক অনিয়মের তদন্ত চলার তথ্য উঠে এসেছে।

সরকারি বিধিমালা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বেসরকারি স্পন্সর বাছাই এবং প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানে সরকারি অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদনে পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে অর্থ পাচারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে মেসি ও আর্জেন্টিনা দলের কেরালা সফরের প্রচারণা চালিয়ে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি করা হয়েছিল। ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এই সফর নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি শত কোটি রুপির স্পন্সর সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।

তৎকালীন কেরালার ক্রীড়ামন্ত্রী ভি আব্দুরাহিমানও একপর্যায়ে আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে নতুন সরকারের তদন্তে সফর আয়োজনের দাবির পেছনে কোনো শক্ত আইনি ভিত্তি বা নির্ভরযোগ্য নথি পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা দল হিসেবে কেরালায় সফর না করলেও মেসি সম্প্রতি দুই সতীর্থকে নিয়ে ব্যক্তিগত সফরে ভারত ঘুরে গেছেন। কলকাতা ও মুম্বাইসহ কয়েকটি শহর সফর করেন তিনি।

মেসির ভারত সফরের পরই কেরালায় আর্জেন্টিনা দলের সফর নিয়ে চালানো প্রচারণা এবং বিপুল অর্থের লেনদেনের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন পুরো বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দিকেই নজর রয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ