ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যেকোনো উদ্যোগের আগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ কয়েকটি বিষয়ে স্পষ্ট সমাধান চান এনসিপির মুখপাত্র ও বিরোধী দলীয় চিপ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগ দেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সোমবার (১১ […]
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যেকোনো উদ্যোগের আগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ কয়েকটি বিষয়ে স্পষ্ট সমাধান চান এনসিপির মুখপাত্র ও বিরোধী দলীয় চিপ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তার ভাষ্য, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগ দেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
সোমবার (১১ আগস্ট) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে ভারত তার ভূখণ্ডে শেখ হাসিনাকে অবস্থান করে বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দিয়ে আসছে। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, বিচারিক ব্যবস্থা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের প্রতি অবমাননার শামিল।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রশ্নটি সমাধান না করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তা বাংলাদেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
নাহিদের দাবি, বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও দিল্লিতে শেখ হাসিনার কথিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভারতের নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন না আসার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, দিল্লির ওই ঘটনার পর মন্ত্রণালয় কেবল একটি বিবৃতি দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে এবং ভারতের কাছ থেকে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনার পরদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও ওই ঘটনায় ভারতের পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্য ব্যাখ্যা, বক্তব্য কিংবা দুঃখ প্রকাশের তথ্য সামনে আসেনি।
নাহিদের মতে, বাংলাদেশের জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমন একটি বিষয় উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠকে যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়া হতাশাজনক।
ভারতীয় হাইকমিশনারের উল্লেখ করা দুই দেশের ‘shared dream’ বা অভিন্ন স্বপ্নের প্রসঙ্গও তোলেন নাহিদ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কোনো সম্প্রসারণবাদী ‘shared dream’-এর অংশ হতে চায় না। তার দাবি, এমন কোনো সম্পর্কও বাংলাদেশ মেনে নেবে না, যেখানে দিল্লি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ বা সেখানে প্রভাব বিস্তারের অধিকার দাবি করবে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এমন একটি দক্ষিণ এশিয়া চায়, যেখানে গণতন্ত্র, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন গুরুত্ব পাবে।
বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদকে আরও কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনার বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও দুঃখ প্রকাশ, শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণ এবং ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের নিশ্চয়তা—এই বিষয়গুলোতে সরকারের দৃঢ় ও দৃশ্যমান অবস্থান প্রয়োজন।
নাহিদ ইসলামের দাবি, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা যদি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পান, তাহলে একই সময়ে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের ভারত সফর করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ কার্যকর অর্থ বহন করে না।
তিনি বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের যুক্তি দেখিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ, আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের আশ্রয় ও তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা সম্পর্কে ভারতের অবস্থান পরিষ্কার করা এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন নাহিদ ইসলাম।