যুক্তরাষ্ট্রে মাঝরাতে হঠাৎ পুলিশ বা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) কর্মকর্তারা বাড়ির দরজায় এলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে অভিবাসীদের জন্য এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের আইনি অধিকার সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে, আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর করা বিচারিক পরোয়ানা ছাড়া অভিবাসন কর্মকর্তারা কোনো বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেন না। অর্থাৎ শুধু প্রশাসনিক নথি বা আইসের নিজস্ব পরোয়ানা দেখিয়ে […]
প্রতীকী ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে মাঝরাতে হঠাৎ পুলিশ বা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) কর্মকর্তারা বাড়ির দরজায় এলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে অভিবাসীদের জন্য এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের আইনি অধিকার সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণভাবে, আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর করা বিচারিক পরোয়ানা ছাড়া অভিবাসন কর্মকর্তারা কোনো বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেন না। অর্থাৎ শুধু প্রশাসনিক নথি বা আইসের নিজস্ব পরোয়ানা দেখিয়ে তারা জোর করে ঘরে ঢুকতে পারেন না।
দরজায় পুলিশ বা আইস কর্মকর্তারা উপস্থিত হলে বাসিন্দারা প্রথমে দরজা না খুলে বাইরে থেকে তাদের পরিচয় জানতে চাইতে পারেন। কর্মকর্তারা কেন এসেছেন এবং তাদের কাছে কোনো পরোয়ানা আছে কি না, সেটিও জানতে চাওয়া যেতে পারে।
পরোয়ানা দেখানো হলে সেটি ভালোভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সেখানে বিচারকের স্বাক্ষর রয়েছে কি না, কোন ঠিকানার কথা উল্লেখ আছে এবং কাকে উদ্দেশ করে পরোয়ানাটি জারি করা হয়েছে—এসব বিষয় খেয়াল করতে হবে।
বিচারকের স্বাক্ষর করা বিচারিক পরোয়ানা না থাকলে সাধারণ পরিস্থিতিতে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ঘরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। কোনো ব্যক্তি চাইলে দরজা বন্ধ রেখেই কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
তবে বিশেষ কিছু জরুরি পরিস্থিতিতে আইন ভিন্ন হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের প্রবেশের আইনগত ক্ষমতা থাকতে পারে। তাই পরিস্থিতি জটিল হলে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশের ক্ষেত্রেও সাধারণ নিয়ম হলো, বাড়িতে প্রবেশের জন্য বিচারিক পরোয়ানা প্রয়োজন। তবে জরুরি পরিস্থিতি বা বিশেষ আইনগত পরিস্থিতিতে পরোয়ানা ছাড়াও প্রবেশের সুযোগ থাকতে পারে।
অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে থাকা সব পরোয়ানা আদালতের বিচারকের দেওয়া পরোয়ানা নয়। আইসের প্রশাসনিক পরোয়ানা থাকলেও সেটি নিজে থেকে কোনো বাসায় জোর করে প্রবেশের অনুমতি দেয় না।
অন্যদিকে, বিচারকের স্বাক্ষর করা বিচারিক পরোয়ানা থাকলে কর্মকর্তারা সেটিতে উল্লেখ করা শর্ত ও সীমার মধ্যে বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেন।
এ কারণে মাঝরাতে দরজায় পুলিশ বা আইস এলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে তাদের পরিচয় ও পরোয়ানার বিষয়টি যাচাই করা এবং নিজের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।