সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১:৩২ অপরাহ্ন, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানব কিডনির অপেক্ষায় শূকরের কিডনি নিয়ে ৯ মাস বেঁচে থাকার রেকর্ড

মানুষের শরীরে জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের পর রেকর্ড ৯ মাস বেঁচে থাকার নজির গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ বছর বয়সী টিম অ্যান্ড্রুস। মানব কিডনি পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই রোগীর শরীরে ‘উইলমা’ নামের একটি জেনেটিকালি পরিবর্তিত শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। পরে ওই কিডনিটি ধীরে ধীরে বিকল হতে শুরু করলে তা অপসারণ করে মৃত এক দাতার কাছ […]

মানব কিডনির অপেক্ষায় শূকরের কিডনি নিয়ে ৯ মাস বেঁচে থাকার রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

মানুষের শরীরে জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের পর রেকর্ড ৯ মাস বেঁচে থাকার নজির গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ বছর বয়সী টিম অ্যান্ড্রুস। মানব কিডনি পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই রোগীর শরীরে ‘উইলমা’ নামের একটি জেনেটিকালি পরিবর্তিত শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল।

পরে ওই কিডনিটি ধীরে ধীরে বিকল হতে শুরু করলে তা অপসারণ করে মৃত এক দাতার কাছ থেকে পাওয়া মানব কিডনি অ্যান্ড্রুসের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।

অ্যান্ড্রুসের দুই কিডনিই টাইপ-২ ডায়াবেটিসের কারণে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের হিসাব অনুযায়ী, মানব কিডনি পাওয়ার অপেক্ষায় পাঁচ বছরের মধ্যে তার প্রতিস্থাপনের সুযোগ ছিল মাত্র ৯ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে মৃত্যুর ঝুঁকি ছিল ৪০ শতাংশের বেশি।

মানব কিডনির তীব্র সংকটের কারণে চিকিৎসকেরা তাই তার শরীরে জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন।

শূকরের কিডনিতে ২৭১ দিন ডায়ালাইসিস ছাড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকেরা ইয়ুকাটান মিনিয়েচার জাতের শূকর ‘উইলমা’র কিডনি অ্যান্ড্রুসের শরীরে প্রতিস্থাপন করেন। মানুষের শরীরে ব্যবহারের উপযোগী করতে শূকরটির জিনে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা যাতে নতুন অঙ্গটিকে দ্রুত আক্রমণ না করে এবং শূকর থেকে কোনো ভাইরাস বা জীবাণু মানুষের শরীরে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কমানো।

প্রতিস্থাপনের পর অ্যান্ড্রুস টানা ২৭১ দিন ডায়ালাইসিস ছাড়াই বেঁচে ছিলেন। জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি নিয়ে কোনো মানুষের বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের নজির।

একই সঙ্গে এটি এমন প্রথম ঘটনা, যেখানে শূকরের কিডনি একজন রোগীকে মানব কিডনি পাওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে বাঁচিয়ে রাখার ‘সেতু’ হিসেবে কাজ করেছে।

নয় মাস পর শূকরের কিডনি অপসারণ

প্রায় ছয় মাস পর অ্যান্ড্রুসের শরীরে প্রতিস্থাপিত শূকরের কিডনির রক্তনালিতে ক্ষতির লক্ষণ দেখা দেয়। এরপর ধীরে ধীরে কিডনিটির কার্যক্ষমতা কমতে থাকে।

প্রতিস্থাপনের প্রায় নয় মাস পর কিডনিটি শরীর থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর অ্যান্ড্রুস কিছুদিন ডায়ালাইসিস নেওয়ার পর মৃত এক দাতার কাছ থেকে মানব কিডনি পান।

নতুন কিডনি প্রতিস্থাপনের পর ছয় মাসের পর্যবেক্ষণে সেটি ভালোভাবে কাজ করেছে। এ সময় বড় কোনো জটিলতা বা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে কিডনি প্রত্যাখ্যানের ঘটনাও দেখা যায়নি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা

মানুষের শরীরে শূকরের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের গবেষণা বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে। ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো জীবিত একজন মানুষের শরীরে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। তবে ওই রোগী ৫২ দিন পর হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যায় মারা যান।

এর আগে প্রাণীর অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের কোনো ঘটনায় দুই মাসের বেশি সময় বেঁচে থাকার নজিরও ছিল না। সেই তুলনায় অ্যান্ড্রুসের প্রায় নয় মাস শূকরের কিডনি নিয়ে বেঁচে থাকা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি এখনো মাত্র একজন রোগীর অভিজ্ঞতা। শূকরের কিডনি দীর্ঘমেয়াদে মানুষের শরীরে কতটা নিরাপদ ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।

মানব অঙ্গের সংকট মোকাবিলায় এই গবেষণা সফল হলে ভবিষ্যতে কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা অসংখ্য রোগীর জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ