যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মসজিদ ও অন্যান্য ইসলামিক উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে হামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে মুসলিম নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR)। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের একই সময়ে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ১৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কায়ারের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মে, জুন এবং […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মসজিদ ও অন্যান্য ইসলামিক উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে হামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে মুসলিম নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR)। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের একই সময়ে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ১৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কায়ারের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মে, জুন এবং জুলাই মাসে এখন পর্যন্ত মসজিদ ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৭টি ঘটনার নথি সংরক্ষণ করা হয়েছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল মাত্র ৬টি।
সংগঠনটির মতে, চলতি বছরের এই ১৭টি ঘটনাই ২০২৫ সালে নথিভুক্ত মোট ঘটনার প্রায় ৫১ শতাংশের সমান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, সহিংসতার হুমকি, অগ্নিসংযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ইসলামিক উপাসনালয়ের কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ।
কায়ারের গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক কোরি সেয়লার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়া এখনো এমন এক ধরনের ঘৃণা, যা অনেক ক্ষেত্রেই সহনীয় বলে ধরে নেওয়া হয়। মসজিদ ও ইসলামিক উপাসনালয়গুলো প্রায়ই রাজনৈতিক বিদ্বেষ ও সহিংসতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।”
তিনি বলেন, উপাসনালয়গুলোকে নিরাপদ রাখা এবং সেগুলোকে প্রার্থনা, ইবাদত ও আত্মিক চর্চার স্থান হিসেবে সংরক্ষণ করতে জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
কায়ার জানিয়েছে, বড় কোনো ঘটনার পরবর্তী তিন মাস পর্যবেক্ষণ করে তারা হামলা ও ঘৃণামূলক ঘটনার প্রবণতা বিশ্লেষণ করে থাকে।
সংগঠনটি গত ১৮ মে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো ইসলামিক সেন্টারে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার কথাও উল্লেখ করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় শিশুদের রক্ষা করতে গিয়ে আমিন আব্দুল্লাহ, মনসুর কাজিহা এবং নাদির আওয়াদ প্রাণ হারান।
কায়ারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মসজিদ, ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার এবং অন্যান্য মুসলিম উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে ৩৩টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এসব তথ্য মূলধারার সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ উন্মুক্ত বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
এছাড়া গত মে মাসে কায়ারের নিউ জার্সি শাখা জানায়, অঙ্গরাজ্যটির অন্তত চারটি মসজিদ থেকে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো আরও ছয়টি মসজিদের বিরুদ্ধে একই ধরনের হুমকির তথ্য নিশ্চিত করে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কায়ার কমিউনিটি নেতাদের তাদের হালনাগাদ “Best Practices for Mosque and Community Safety Guide” প্রকাশের আগে নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, নর্থ আমেরিকান ইসলামিক ট্রাস্ট (NAIT)–এর সঙ্গে যৌথভাবে আগামী আগস্টের শেষ দিকে এই নিরাপত্তা নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি