যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ও ব্যবসায়িক (বি-১/বি-২) ভিসা আবেদনকারীদের জন্য চালু থাকা ভিসা বন্ড বা জামানত নীতির আওতায় আরও পাঁচটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত এই কর্মসূচিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত দেশের কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য জামানত […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ও ব্যবসায়িক (বি-১/বি-২) ভিসা আবেদনকারীদের জন্য চালু থাকা ভিসা বন্ড বা জামানত নীতির আওতায় আরও পাঁচটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত এই কর্মসূচিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত দেশের কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য জামানত জমা দিতে হতে পারে।
রেডিও নিউজিল্যান্ড এবং মার্কিন সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে ফিজি, পাপুয়া নিউগিনি, টোঙ্গা, টুভালু এবং ভানুয়াতু এই কর্মসূচির আওতায় এসেছে। এর ফলে বর্তমানে বিশ্বের মোট ৫০টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ভিসা বন্ডের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার (ওভারস্টে) হার তুলনামূলক বেশি, সেসব দেশের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে ভিসা ইস্যুর শর্ত হিসেবে এই জামানত দাবি করতে পারবেন।
নতুন স্থায়ী নীতিতে সর্বনিম্ন ৫ হাজার ডলারের জামানতের স্তর বাতিল করা হয়েছে। এখন প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড নির্ধারণ করা যাবে।
তবে এই নিয়ম সব আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। শুধুমাত্র নির্ধারিত দেশের যেসব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তা অতিরিক্ত ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করবেন, তাদেরই ভিসা বন্ড জমা দিতে হবে। ভিসার সব শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে জমা দেওয়া অর্থ আবেদনকারীকে ফেরত দেওয়া হবে।
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার অপব্যবহার এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমানো। সরকারের মতে, ভিসা বন্ড ব্যবস্থা অভিবাসন আইন কার্যকর করতে এবং ভিসার শর্ত পালনে আবেদনকারীদের উৎসাহিত করবে।
অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এই নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, কয়েক হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানতের শর্ত অনেক বৈধ ভ্রমণকারী, পরিবার ও অন্যান্য আবেদনকারীর জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে তুলনামূলক কম আয়ের দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
মার্কিন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩ আগস্ট থেকে ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ীভাবে কার্যকর হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন দেশ এই তালিকায় যুক্ত করা বা বিদ্যমান কোনো দেশকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতাও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হাতে থাকবে।