যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে মহাসড়কে একটি সেমি-ট্রাকের ধাক্কায় ডেড্রিক গ্যারেট (৩৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালকের অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চালক সুবে সিং (২৬) ভারতের নাগরিক এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হাইন্ডস কাউন্টির ইন্টারস্টেট-২০ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মিসিসিপি হাইওয়ে প্যাট্রোলের (এমএইচপি) তথ্য […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে মহাসড়কে একটি সেমি-ট্রাকের ধাক্কায় ডেড্রিক গ্যারেট (৩৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালকের অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চালক সুবে সিং (২৬) ভারতের নাগরিক এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হাইন্ডস কাউন্টির ইন্টারস্টেট-২০ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মিসিসিপি হাইওয়ে প্যাট্রোলের (এমএইচপি) তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন প্রায় দুপুর ১টা ৪৬ মিনিটে মহাসড়কের ২৯ মাইল মার্কারের কাছে ১৮-হুইলার ও এক পথচারীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোর বাসিন্দা সুবে সিং ২০২১ সালের একটি ফ্রেইটলাইনার ট্রাক নিয়ে পশ্চিমমুখী লেনে যাচ্ছিলেন। একই সময় মিসিসিপির টেরি শহরের বাসিন্দা ডেড্রিক গ্যারেট তাঁর ২০১৬ সালের হোন্ডা সিআর-ভি থেকে নেমে মহাসড়কে ছিলেন। এ সময় ট্রাকটি তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত গ্যারেটকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। ট্রাকচালক সুবে সিং দুর্ঘটনায় আহত হননি।
দুর্ঘটনার কারণ এবং এর পেছনের পরিস্থিতি এখনো তদন্তাধীন। মিসিসিপি হাইওয়ে প্যাট্রোল জানিয়েছে, ঘটনাটি সক্রিয় তদন্তের মধ্যে রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে অতিরিক্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে চালকের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, সে বিষয়টিও তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
তবে দুর্ঘটনার পর সুবে সিংয়ের অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ভারতের নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে আইনগত অনুমতি ছাড়া অবস্থান করছিলেন। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর বর্ডার প্যাট্রোলের সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ হয়। পরে ২০১৮ সালের ১০ মে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাকে বন্ডে মুক্তি দেয়। এরপর তিনি জিপিএস মনিটর ব্যবহারের মাধ্যমে ‘অল্টারনেটিভ টু ডিটেনশন’ কর্মসূচির আওতায় ছিলেন।
এই তথ্য সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী বাণিজ্যিক যানচালকদের নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ফেডারেল নজরদারিতে থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে বাণিজ্যিক ট্রাক চালানোর সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে অনেকেই চালকের বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স বা সিডিএল পাওয়ার প্রক্রিয়া, তাঁর নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা সরকারি সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।
ফেডারেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বাণিজ্যিক গাড়ি চালানোর বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারী বাণিজ্যিক যান চালানোর ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। অবৈধভাবে অবস্থানরত বাণিজ্যিক চালকদের শনাক্ত ও সড়ক থেকে সরানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ফেডারেল সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে, মিসিসিপি হাইওয়ে প্যাট্রোল দুর্ঘটনার মূল কারণ খতিয়ে দেখছে। গ্যারেট কেন তাঁর গাড়ি থেকে নেমে মহাসড়কে অবস্থান করছিলেন এবং সংঘর্ষের ঠিক আগে কী ঘটেছিল, সেসব বিষয় তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত ট্রাকচালকের দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
ডেড্রিক গ্যারেটের মৃত্যুর ঘটনায় মিসিসিপিতে শোকের পাশাপাশি দুর্ঘটনার তদন্ত দ্রুত শেষ করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় সামনে আসা চালকের অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবস্থায় চালকদের যোগ্যতা ও লাইসেন্স যাচাইয়ের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
মামলাটি এখনো তদন্তাধীন থাকায় দুর্ঘটনার জন্য কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ বা চূড়ান্ত দায় নির্ধারিত হয়েছে—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।