প্রায় এক শতাব্দী পর আবারও কোনো জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছবি দেশটির কয়েনে স্থান পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নতুন ১ ডলারের স্মারক কয়েন বাজারে এনেছে মার্কিন টাকশাল। এতে রয়েছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি। ২ সেপ্টেম্বর থেকে কয়েনটি বিক্রি শুরু করেছে মার্কিন টাকশাল। একই সঙ্গে এটি বৈধ মুদ্রা হিসেবে প্রচলনেও এসেছে। কয়েনের এক […]
ছবি: সংগৃহীত
প্রায় এক শতাব্দী পর আবারও কোনো জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছবি দেশটির কয়েনে স্থান পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নতুন ১ ডলারের স্মারক কয়েন বাজারে এনেছে মার্কিন টাকশাল। এতে রয়েছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি।
২ সেপ্টেম্বর থেকে কয়েনটি বিক্রি শুরু করেছে মার্কিন টাকশাল। একই সঙ্গে এটি বৈধ মুদ্রা হিসেবে প্রচলনেও এসেছে। কয়েনের এক পাশে ট্রাম্পের মুখমণ্ডলের ছবি, ওপরে ‘LIBERTY’ এবং নিচে ‘1776 ~ 2026’ লেখা রয়েছে। পাশে রয়েছে ‘IN GOD WE TRUST’। অন্য পাশে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট সিলের প্রতীক হিসেবে একটি ঈগলের ছবি রাখা হয়েছে।
স্বাধীনতার আড়াই শ বছর পূর্তি উদ্যাপনকে কেন্দ্র করেই এই বিশেষ কয়েন তৈরি করা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে সাধারণভাবে জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি দেশটির মুদ্রায় ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য ২০২০ সালের একটি আইনি বিধানের আওতায় বিশেষ স্মারক কয়েন তৈরির অনুমোদনের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
কয়েনটির দামও এর অভিহিত মূল্যের চেয়ে বেশি রাখা হয়েছে। ২৫টি কয়েনের একটি রোল বিক্রি হচ্ছে ৬১ ডলারে। ১০০ কয়েনের একটি ব্যাগের দাম ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট। বিক্রি শুরুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই টাকশালের ওয়েবসাইটে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার তথ্যও দেখা যায়। বর্তমানে প্রতি পরিবারকে সর্বোচ্চ দুটি অর্ডারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি মার্কিন কয়েনে ব্যবহারের নজির অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ১৯২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত একটি স্মারক হাফ-ডলারে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে ট্রাম্প হলেন কুলিজের পর দ্বিতীয় জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যার ছবি দেশটির কয়েনে এসেছে।
তবে কুলিজের সেই কয়েন ছিল স্মারক হাফ-ডলার। ট্রাম্পের নতুন ১ ডলারের কয়েনকে ঘিরে বিতর্কের বড় কারণ হলো এটি ২০২৬ সালের বিশেষ স্মারক মুদ্রা হিসেবে তৈরি হলেও প্রচলনেও দেওয়া হয়েছে। আইনগতভাবে এর অনুমোদন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
নতুন কয়েনটি পুরোপুরি সোনার তৈরি নয়; এতে শুধু সোনালি আবরণ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন টাকশাল জানিয়েছে, কয়েনটি যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছরের ঐতিহ্য ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে স্মরণ করতেই তৈরি করা হয়েছে।
ট্রাম্পের ছবি থাকা এই কয়েন এরই মধ্যে সংগ্রাহকদের কাছেও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ কিছু কয়েনের ওপর ‘July 4th’ চিহ্ন রয়েছে। ৪ জুলাই বিশেষভাবে তৈরি করা এসব কয়েন সাধারণ রোল ও ব্যাগের মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন টাকশাল।
সূত্র: বিবিসি, এপি