দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়মের মামলায় বড় ধাক্কা খেল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। স্বাধীন কমিশনের রায়ে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগগুলোতে ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা না করার চারটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতেও সিটির বিরুদ্ধে রায় গেছে। তবে এখনো ক্লাবটির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। স্বাধীন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০০৯-১০ থেকে […]
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়মের মামলায় বড় ধাক্কা খেল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। স্বাধীন কমিশনের রায়ে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগগুলোতে ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা না করার চারটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতেও সিটির বিরুদ্ধে রায় গেছে। তবে এখনো ক্লাবটির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি।
স্বাধীন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত নয় বছরে ম্যানচেস্টার সিটি তাদের আর্থিক হিসাব নিয়ে একাধিক গুরুতর নিয়ম ভঙ্গ করেছে। কমিশনের findings অনুযায়ী, ক্লাবটি কথিত ভুয়া বা সাজানো বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে আয় বাড়িয়ে দেখানো এবং খরচ কম দেখানোর ব্যবস্থা করেছিল। এতে ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অঙ্ক জড়িত ছিল বলে প্রিমিয়ার লিগ জানিয়েছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে ভুল আর্থিক তথ্য দাখিল, প্রকৃত আর্থিক অবস্থা গোপন করা এবং প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফার আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের বিষয়ও রয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত চলাকালে প্রিমিয়ার লিগকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না করার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের তদন্ত শুরু হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। পরে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিযোগগুলো স্বাধীন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়। ৪২ দিন ধরে চলা শুনানি শেষ হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। এরপর কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রকাশের আগে দীর্ঘ সময় ধরে আইনি প্রক্রিয়া চলে।
কমিশনের রায়ে সন্তুষ্ট নয় ম্যানচেস্টার সিটি। ক্লাবটি অভিযোগগুলোতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে জানিয়েছে, সিদ্ধান্তে আইন, নীতি ও তথ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুল রয়েছে। এ কারণে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সব সুযোগ কাজে লাগানোর কথা জানিয়েছে তারা।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য সিটির হাতে ২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় রয়েছে। আপিল হলে নতুন কমিশনের মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনা হবে। আপিল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলাটি আরও দীর্ঘ হতে পারে।
শাস্তির বিষয়টি আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে। প্রিমিয়ার লিগ জানিয়েছে, আপিলসহ বাকি প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শেষ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। ফলে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সেটিই এখন ফুটবল অঙ্গনের পরবর্তী বড় প্রশ্ন।