সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
৬:০৮ অপরাহ্ন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কের কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে ৩৫ শতাংশ ছাত্রী যৌন নিপীড়নের শিকার, নতুন করে শুরু তদন্ত

নিউইয়র্কের কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে যৌন নিপীড়নের ঘটনা নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, সেখানে ৩৫ শতাংশ স্নাতক পর্যায়ের নারী শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে থাকাকালে অনিচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। নতুন করে তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৪ সালে কর্নেলের একটি ভ্রাতৃসংগঠন (ফ্র্যাটারনিটি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ। […]

নিউইয়র্কের কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে ৩৫ শতাংশ ছাত্রী যৌন নিপীড়নের শিকার, নতুন করে শুরু তদন্ত

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

নিউইয়র্কের কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে যৌন নিপীড়নের ঘটনা নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, সেখানে ৩৫ শতাংশ স্নাতক পর্যায়ের নারী শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে থাকাকালে অনিচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

নতুন করে তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৪ সালে কর্নেলের একটি ভ্রাতৃসংগঠন (ফ্র্যাটারনিটি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ। ওই ঘটনায় সাতজন শিক্ষার্থী জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি ওই শিক্ষার্থীর করা একটি দেওয়ানি মামলার পর টম্পকিন্স কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন মামলাটির ফৌজদারি তদন্ত পুনরায় শুরু করেছেন।

অভিযোগকারী ওই সময় ক্যাম্পাস পুলিশের কাছে ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালে এ ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, সে সময় পুলিশের কাছে দেওয়া তার বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন এগিয়ে নেওয়া হয়নি। নতুন করে পাওয়া তথ্য ও নথি পর্যালোচনার পর এখন বিষয়টি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

কর্নেল ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে তারা নিজস্ব তদন্ত করেছিল এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই তদন্তে সাময়িক বহিষ্কার ও স্থায়ী বহিষ্কারসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়। ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চি ফি (Chi Phi) ভ্রাতৃসংগঠনের ওই অধ্যায়টি ২০২৪ সালেই ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।

কর্নেলের ২০২৫ সালের ‘সার্ভে অব সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট অ্যান্ড রিলেটেড মিসকন্ডাক্ট’ জরিপে ৩৫ শতাংশ স্নাতক নারী শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, কর্নেলে পড়াশোনার সময় তারা জোরপূর্বক বা অক্ষম অবস্থায় অনিচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। ২০২৩ সালের জরিপে এই হার ছিল ২৩ শতাংশ।

কর্নেলের প্রেসিডেন্টের গঠিত ক্যাম্পাস যৌন নিপীড়নবিষয়ক টাস্কফোর্স চলতি বছরের মার্চে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। সেখানে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের জবাবদিহি ও সহায়তা ব্যবস্থা জোরদারের বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়।

এদিকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল কর্নেল কর্তৃপক্ষের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে ২০২৪ সালের অভিযোগটি সামলেছিল, তা নিয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্নেলও এ ধরনের স্বাধীন তদন্তে সম্মতি দিয়েছে বলে গভর্নর জানিয়েছেন।

নতুন তদন্তে ২০২৪ সালের ঘটনার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ—সবকিছুই পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন হয়নি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ