সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
৫:০১ অপরাহ্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় মামদানির নতুন কৌশল, ২৬ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

নিউইয়র্ক সিটিতে ইহুদিবিদ্বেষ ও ইহুদিদের লক্ষ্য করে সংঘটিত বিদ্বেষমূলক অপরাধ মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ পৌর কৌশল ঘোষণা করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই কৌশলে নিরাপত্তা, শিক্ষা, বিদ্বেষ প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের সহায়তা এবং ইহুদি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে। মামদানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হেট ক্রাইম প্রতিরোধে মেয়রের কার্যালয়ের জন্য মোট ২৬ […]

নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় মামদানির নতুন কৌশল, ২৬ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

নিউইয়র্ক সিটিতে ইহুদিবিদ্বেষ ও ইহুদিদের লক্ষ্য করে সংঘটিত বিদ্বেষমূলক অপরাধ মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ পৌর কৌশল ঘোষণা করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই কৌশলে নিরাপত্তা, শিক্ষা, বিদ্বেষ প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের সহায়তা এবং ইহুদি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে।

মামদানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হেট ক্রাইম প্রতিরোধে মেয়রের কার্যালয়ের জন্য মোট ২৬ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের আওতায় এই কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার কমিউনিটি সংগঠনগুলোর বিদ্বেষ প্রতিরোধ ও ভুক্তভোগীদের সহায়তায় এবং ১ মিলিয়ন ডলার সিনাগগসহ উপাসনালয়ের নিরাপত্তা জোরদারে ব্যয় করা হবে।

নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয় এটিকে শহরের প্রথম পৌরপর্যায়ের ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছে। পরিকল্পনাটি সাতটি প্রধান লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে—বিদ্বেষমূলক সহিংসতা প্রতিরোধ, ইহুদিবিদ্বেষের বিভিন্ন রূপ মোকাবিলা, শিক্ষা সম্প্রসারণ, ভুক্তভোগীদের সহায়তা, ইহুদি জীবন ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা, ইহুদি নিউইয়র্কবাসীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং ইহুদি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য উদযাপন।

পরিকল্পনার আওতায় ছোট ইহুদি সংগঠন ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা জোরদারে ১ মিলিয়ন ডলারের একটি কর্মসূচি রাখা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে দরজার উন্নত তালা, শ্যাটারপ্রুফ কাচ ও অন্যান্য তুলনামূলক ছোট নিরাপত্তা সরঞ্জাম কেনার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন নগর সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করতে একটি আন্তঃসংস্থা নিরাপত্তা কর্মদল পুনরায় চালুর কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক খাতেও অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। কুইন্স হলোকাস্ট মেমোরিয়ালের কাজ শেষ করতে ২ মিলিয়ন ডলার এবং সেন্ট্রাল ব্রুকলিনের সেন্টার ফর নিউ জুইশ কালচারের জন্য ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য মিউজিয়াম অব জুইশ হেরিটেজে শিক্ষা সফরের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া লিংকএনওয়াইসি কিয়স্কসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ইহুদি নিউইয়র্কবাসীর ইতিহাস ও অবদান তুলে ধরে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে। সিটি কমিশন অন হিউম্যান রাইটসও বৈষম্যের শিকার হলে কীভাবে অভিযোগ জানাতে হবে, সে বিষয়ে আলাদা জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালাবে।

এই উদ্যোগের পেছনে শহরে ইহুদিবিদ্বেষমূলক অপরাধের পরিসংখ্যানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এনওয়াইপিডির সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে শহরে নিশ্চিত হওয়া ৩৬০টি বিদ্বেষমূলক অপরাধের মধ্যে ২০৫টি বা ৫৬ দশমিক ৯ শতাংশ ছিল ইহুদিবিদ্বেষী। একই সময়ে ইহুদিবিদ্বেষী অপরাধ আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ ইহুদি হলেও তারা নিশ্চিত হওয়া বিদ্বেষমূলক অপরাধের অর্ধেকের বেশি ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী হয়েছেন।

তবে নতুন কৌশলপত্রে ইহুদিবিদ্বেষের কোনো একক আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা গ্রহণ করা হয়নি। মেয়রের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক হলোকাস্ট রিমেমব্রেন্স অ্যালায়েন্স (আইএইচআরএ), জেরুজালেম ডিক্লারেশন অন অ্যান্টিসেমিটিজম এবং নেক্সাস ডকুমেন্টসহ একাধিক কাঠামো প্রচলিত রয়েছে। প্রশাসনের অবস্থান হলো, একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণের পরিবর্তে বিদ্যমান আইন ব্যবহার করে অপরাধ ও বৈষম্যের ঘটনা মোকাবিলা করা।

এই সিদ্ধান্ত অবশ্য সমালোচনামুক্ত নয়। এডিএলসহ কিছু ইহুদি সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেছেন, ইহুদিবিদ্বেষের স্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকলে কৌশলটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। অন্যদিকে কিছু ইহুদি সংগঠন ও নেতারা নিরাপত্তা, শিক্ষা ও ভুক্তভোগীদের সহায়তায় নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে মামদানির অবস্থানও এই বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। তিনি গাজায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং তার এই অবস্থান নিয়ে নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে তার মতবিরোধ রয়েছে। একই সময়ে মামদানি বলে আসছেন, ইসরায়েল সরকারের নীতির সমালোচনা এবং ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষকে এক করে দেখা উচিত নয়।

নতুন কৌশলপত্রের মাধ্যমে মামদানি প্রশাসন ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষা, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ভুক্তভোগী সহায়তা ও জনসচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা পরবর্তী সময়ে বিদ্বেষমূলক অপরাধের তথ্য, সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ এবং বিনিয়োগের ফলাফল দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ