সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
৪:২৭ অপরাহ্ন, ২১ অক্টোবর ২০২৬

নিউইয়র্কে মেডিকেইড জালিয়াতির তদন্তে এক ডজনের বেশি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে অভিযান, গ্রেপ্তার ২

নিউইয়র্কের ব্রুকলিন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের এক ডজনের বেশি প্রাপ্তবয়স্কদের ডে-কেয়ার কেন্দ্রে অভিযান চালিয়েছে ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। মেডিকেইডের অর্থ পেতে সেবা না দিয়েও বিল জমা দেওয়া, মৃত বা অনুপস্থিত গ্রাহকদের নামে অর্থ দাবি করা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগে এ তদন্ত চলছে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের একটি পারিবারিকভাবে পরিচালিত কেন্দ্রের ঘটনায় অন্তত দুজনকে গ্রেপ্তার করা […]

নিউইয়র্কে মেডিকেইড জালিয়াতির তদন্তে এক ডজনের বেশি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে অভিযান, গ্রেপ্তার ২

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

নিউইয়র্কের ব্রুকলিন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের এক ডজনের বেশি প্রাপ্তবয়স্কদের ডে-কেয়ার কেন্দ্রে অভিযান চালিয়েছে ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। মেডিকেইডের অর্থ পেতে সেবা না দিয়েও বিল জমা দেওয়া, মৃত বা অনুপস্থিত গ্রাহকদের নামে অর্থ দাবি করা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগে এ তদন্ত চলছে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের একটি পারিবারিকভাবে পরিচালিত কেন্দ্রের ঘটনায় অন্তত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পরিচালিত এ অভিযানের খবর বুধবার প্রকাশিত বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তদন্তে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস), হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা এবং নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) অংশ নিয়েছে।

স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের কেন্দ্রে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের একটি পারিবারিকভাবে পরিচালিত প্রাপ্তবয়স্কদের ডে-কেয়ার কেন্দ্রের মালিক ও প্রোগ্রাম পরিচালকের বিরুদ্ধে শত শত প্রবীণকে সেবা দেওয়ার ভুয়া দাবি দেখিয়ে মেডিকেইড থেকে ৫ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যেসব গ্রাহক মারা গেছেন কিংবা কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন না, তাঁদের নামেও বিল জমা দেওয়া হয়েছিল।

স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মাইকেল ম্যাকমাহন এ ঘটনাকে ‘ব্যাপক প্রতারণা’ ও ‘দুঃসাহসী জালিয়াতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ ঘটনায় অন্তত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এবিসি৭ নিউইয়র্ক। তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ব্রুকলিন ও কুইন্সেও অভিযান

তদন্তের অংশ হিসেবে ব্রুকলিনের সানসেট পার্ক ও বরো পার্কসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং কুইন্সের ফ্লাশিংয়ে ডে-কেয়ার কেন্দ্রগুলোতে অভিযান চালানো হয়। কয়েকটি স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নথিপত্র ও বাক্স নিয়ে বের হতে দেখা গেছে। কিছু কেন্দ্রে আদালতের পরোয়ানা নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের বিল জমা দেওয়ার পদ্ধতি ও কার্যক্রম নিয়ে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এ অভিযানের পাশাপাশি মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড পরিষেবা কেন্দ্রের (সিএমএস) পরিচালক ডা. মেহমেত ওজ ফ্লাশিংয়ের দুটি ডে-কেয়ার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। প্রতিষ্ঠান দুটির বিল জমা দেওয়ার তথ্য, গ্রাহকদের উপস্থিতি এবং সেবার প্রকৃত পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে জমা দেওয়া বিলের সঙ্গে বাস্তবে দেওয়া সেবার সামঞ্জস্য যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিসহ আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ৮০টির বেশি প্রবীণদের সেবাকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের নজরদারির আওতায় এসেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সবগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়েছে—এমন নয়; কয়েকটি কেন্দ্রে পরিদর্শন ও সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়ার তথ্যও রয়েছে।

১০০টির বেশি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যাচাই

নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানিয়েছেন, করদাতাদের অর্থের অপব্যবহার ও জালিয়াতি ঠেকাতে অঙ্গরাজ্য প্রশাসন কয়েক মাস ধরে বৃহত্তর তদন্ত চালাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য জালিয়াতি বা বেআইনি কার্যক্রমে জড়িত থাকার সন্দেহে ১০০টির বেশি সরকারি অর্থায়নপ্রাপ্ত সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যাচাই করা হচ্ছে।

তদন্তে অর্থ পাচার, অবৈধ আর্থিক সুবিধা দেওয়া এবং সেবা না দিয়েও বিল জমা দেওয়ার মতো অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তাধীন সব প্রতিষ্ঠান জালিয়াতিতে জড়িত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি কর্তৃপক্ষ।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সামাজিক প্রাপ্তবয়স্ক ডে-কেয়ার কর্মসূচি আগে থেকেই নজরদারির আওতায় ছিল। এ কর্মসূচির আওতায় প্রবীণদের দিনের বেলায় সামাজিক যোগাযোগ, বিনোদন, খাবার ও অন্যান্য সহায়তামূলক সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যোগ্য সেবার ব্যয় মেটাতে মেডিকেইড থেকে অর্থ দেওয়া হয়।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কম্পট্রোলারের কার্যালয়ের ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনেও কর্মসূচিটির তদারকিতে দুর্বলতা এবং সন্দেহজনক ও অনিয়মিত অর্থ পরিশোধের বিষয় উঠে আসে। প্রতিবেদনে পর্যালোচিত কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও অর্থ পরিশোধের তথ্য উল্লেখ করা হয়।

বৃহত্তর তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশের প্রস্তুতি

এফবিআই, আইআরএস, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা এবং এনওয়াইপিডির অংশগ্রহণে পরিচালিত বৃহত্তর তদন্তের বিস্তারিত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরার কথা রয়েছে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের পৃথক তদন্তের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।

তদন্তের মাধ্যমে মেডিকেইডের অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, জমা দেওয়া বিলের সঙ্গে বাস্তব সেবার কতটা মিল রয়েছে এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বেআইনিভাবে অর্থ নিয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সূত্র: এবিসি৭ নিউইয়র্ক, সিবিএস নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক পোস্ট ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কম্পট্রোলারের কার্যালয়

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ