বিডিআর ট্রাজেডির ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় এই প্রথমবারের মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকে আসামি করার প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে বিডিআর বিস্ফোরক মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, […]
ছবি: সংগৃহীত
বিডিআর ট্রাজেডির ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় এই প্রথমবারের মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকে আসামি করার প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে বিডিআর বিস্ফোরক মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, একাধিক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নাম সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। আইনের বিধান অনুযায়ী তাদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮০০ জন। মামলায় ১ হাজার ২০০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সাক্ষীর জবানবন্দিতে শেখ হাসিনাসহ আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।
বিডিআর হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত বিস্ফোরক মামলাটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি এবং বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এ মামলার প্রায় ২০০ জন আসামি জামিন পেয়েছেন।
এর আগে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত হত্যা মামলার রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরে হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। পাশাপাশি ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পান ২৮৩ জন। বর্তমানে হত্যা মামলাটি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার প্রাণহানি ঘটে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।