সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

USCIS
৫:০৭ অপরাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া আরও কঠিন: সাক্ষাৎকার ছাড়াই আবেদন সরাসরি আদালতে পাঠাবে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের (অ্যাসাইলাম) আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীকে আর দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার (ইউএসসিআইএস) কর্মকর্তাদের মুখোমুখি সাক্ষাৎকারের সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদের আবেদনপত্র সরাসরি অভিবাসন আদালতে পাঠানো হবে, যার ফলে দ্রুত শুনানির মাধ্যমে তড়িৎ দেশ থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। মঙ্গলবার থেকে […]

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া আরও কঠিন: সাক্ষাৎকার ছাড়াই আবেদন সরাসরি আদালতে পাঠাবে ট্রাম্প প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের (অ্যাসাইলাম) আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীকে আর দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার (ইউএসসিআইএস) কর্মকর্তাদের মুখোমুখি সাক্ষাৎকারের সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদের আবেদনপত্র সরাসরি অভিবাসন আদালতে পাঠানো হবে, যার ফলে দ্রুত শুনানির মাধ্যমে তড়িৎ দেশ থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।

মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই নীতিকে মার্কিন প্রশাসন আশ্রয়ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের জট কমানোর পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৪ লাখ আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে। নতুন ব্যবস্থার ফলে যে সব আবেদন আদালতে খারিজ হওয়ার স্পষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো সরাসরি বিচারকের কাছে পাঠিয়ে বিচারিক কাজ দ্রুত সম্পাদন করা সম্ভব হবে।

তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাঁদের অভিযোগ, সাক্ষাৎকারের সুযোগ না পাওয়ায় আশ্রয়প্রার্থীরা নিজ দেশে তাঁদের ওপর হওয়া নির্যাতন বা প্রাণভয়ের কারণ ব্যাখ্যার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। আগে অভিবাসন কর্মকর্তা আবেদনকারীর বক্তব্য শুনে একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন করতেন। নতুন ব্যবস্থায় সেই ধাপ না থাকায় সরাসরি অভিবাসন আদালতের মুখোমুখি হতে হবে, যেখানে আবেদন নাকচ হলে গ্রেফতার বা তড়িৎ দেশত্যাগের আশঙ্কা থাকবে।

শরণার্থী সহায়তা সংস্থা ‘হিয়াস’ (HIAS)-এর প্রধান নির্বাহী বেথ ওপেনহাইম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই নিয়মের ফলে বাস্তবে নিজ দেশে চরম নির্যাতন বা প্রাণনাশের মুখে থাকা বহু নিরপরাধ মানুষও আইনি সুরক্ষার সুযোগ হারিয়ে নিজ দেশে ফেরত যেতে বাধ্য হতে পারেন।

অন্যদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, প্রাথমিক সাক্ষাৎকার পাওয়া আশ্রয়প্রার্থীদের কোনো সাংবিধানিক বা আইনি অধিকার নয়। নতুন নিয়মের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, অবৈধ অভিবাসন রোধ ও বহিষ্কার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতে ব্যাপক রদবদল এনেছে। গত এক বছরে শতাধিক অভিবাসন বিচারককে পদচ্যুত বা পদত্যাগে বাধ্য করার পাশাপাশি নতুন বিচারক নিয়োগ দিয়েছে বর্তমান প্রশাসন।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স / ফক্স নিউজ / ইউএসডিএইচএস

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ