যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর (ICE) হাতে অন্যায়ভাবে আটক মার্কিন নাগরিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার লক্ষ্যে কংগ্রেসে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে আটক হওয়া কোনো মার্কিন নাগরিক আদালতে মামলা করে জয়ী হলে ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। আটক থাকার প্রথম দিনের পর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ১ লাখ […]
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর (ICE) হাতে অন্যায়ভাবে আটক মার্কিন নাগরিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার লক্ষ্যে কংগ্রেসে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে আটক হওয়া কোনো মার্কিন নাগরিক আদালতে মামলা করে জয়ী হলে ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। আটক থাকার প্রথম দিনের পর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ১ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
গত ১৫ অক্টোবর নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজ ‘জাস্টিস ফর সিটিজেনস রংফুলি ডিটেইন্ড বাই আইসিই অ্যাক্ট’ নামে বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটির লক্ষ্য হলো, অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের হাতে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার বা আটক হওয়া মার্কিন নাগরিকদের আদালতে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
বিল অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারির পর কোনো মার্কিন নাগরিককে পরোয়ানা বা সম্ভাব্য কারণ ছাড়া অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা আটক করলে তিনি ফেডারেল আদালতে মামলা করতে পারবেন। মামলায় সফল হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। আটক থাকার প্রথম দিনের পর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হবে আরও ১ লাখ ডলার।
প্রস্তাবিত আইনে মামলা করার জন্য পাঁচ বছর সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা সরকার যাতে ‘কোয়ালিফায়েড ইমিউনিটি’ কিংবা ‘সোভরেইন ইমিউনিটি’র মতো আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে দায় এড়াতে না পারে, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এসব সুরক্ষা বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায় এবং সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে।
এ ছাড়া, সফল মামলাকারীর আইনজীবীর যুক্তিসংগত খরচ পরিশোধ এবং উপযুক্ত আদালতের নির্দেশ পাওয়ার সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বিলটিতে আইসিইর জন্য আগে বরাদ্দ করা কিছু অব্যবহৃত তহবিল বাতিলের বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কংগ্রেসের সরকারি নথি অনুযায়ী, বিলটির নম্বর এইচআর ১০৮২৬। ১৫ অক্টোবর বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপনের পর বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। কংগ্রেসের নথিতে এটিকে প্রস্তাবিত বিল হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে; এটি আইন হিসেবে কার্যকর হয়েছে, এমন কোনো তথ্য নেই।
বিলটির মূল উদ্যোক্তা তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজের সঙ্গে নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান বনি ওয়াটসন কোলম্যানও যুক্ত হয়েছেন। লিগ অব ইউনাইটেড লাতিন আমেরিকান সিটিজেনস (লুলাক) এবং সেন্টার ফর ল অ্যান্ড সোশ্যাল পলিসি (ক্লাস্প) প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
বিল উত্থাপনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ফার্নান্দেজের কার্যালয় প্রোপাবলিকার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের উল্লেখ করেছে। ওই অনুসন্ধানে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে ৫০৬ জন মার্কিন নাগরিক আটক হওয়ার তথ্য উঠে আসে। তাঁদের মধ্যে শিশু এবং অভিবাসন অভিযান চলার সময় ভিডিও ধারণ করছিলেন—এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিলটির উদ্যোক্তাদের মতে, মার্কিন নাগরিকদের ভুলভাবে আটক করা হলে তাঁদের জন্য কার্যকর আইনি প্রতিকার থাকা জরুরি। তাঁদের বক্তব্য, সংবিধানসম্মত অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা থাকা উচিত।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), এনওয়াই১