সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

USCIS
৬:৩৪ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী বহিষ্কার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে দেশটি থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের (এমপিআই) এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে বহিষ্কারের এই সংখ্যা ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত বার্ষিক ১০ লাখ অভিবাসী বহিষ্কারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্লেষণটিতে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে […]

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী বহিষ্কার

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে দেশটি থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের (এমপিআই) এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে বহিষ্কারের এই সংখ্যা ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত বার্ষিক ১০ লাখ অভিবাসী বহিষ্কারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্লেষণটিতে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময়ের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস), কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) এবং তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া সরকারি নথির ভিত্তিতে হিসাবটি তৈরি করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

এমপিআইয়ের হিসাবে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে বার্ষিক হিসাবে প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরেও বহিষ্কারের বার্ষিক হার প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির অনুমান। এই হার ২০২১ থেকে ২০২৪ অর্থবছরে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের বার্ষিক গড়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। তবে ২০০০ অর্থবছরে বহিষ্কারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৬০ হাজার, যা বর্তমান হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

বহিষ্কৃতদের বড় অংশ সীমান্তে আটক

এমপিআইয়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে বহিষ্কৃতদের প্রায় ৬৯ শতাংশকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে আনুমানিক ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষকে সীমান্তে আটকের পর সেখান থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আরও প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষকে সীমান্তে আটক করার পর আইসের মাধ্যমে বহিষ্কার করা হয়।

অন্যদিকে, প্রায় ৩ লাখ মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে আটক করার পর বহিষ্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ সীমান্তে আটক ব্যক্তিদের পাশাপাশি দেশটির ভেতরে বসবাসরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধেও আইন প্রয়োগের কার্যক্রম বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে আটক ব্যক্তিদের বহিষ্কারের হার ক্রমেই বাড়ছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট বহিষ্কারের ২৮ শতাংশ ছিল দেশের ভেতরে আটক ব্যক্তিরা। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে এ হার বেড়ে ৩৪ শতাংশ হয়। জুলাই মাসে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ শতাংশে।

এমপিআইয়ের বিশ্লেষক মার্ক রোজেনব্লুমের হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম তিন মাসে দেশের অভ্যন্তরে আটক ব্যক্তিদের বহিষ্কারের গড় হার ছিল মাসে প্রায় ৮ হাজার। মে থেকে জুলাই ২০২৬ সময়ে তা বেড়ে মাসে গড়ে প্রায় ১৯ হাজারে পৌঁছায়।

বহিষ্কৃতদের অনেকের অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড নেই

প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, বহিষ্কৃত অভিবাসীদের বড় অংশের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড ছিল না। এমপিআইয়ের হিসাবে, মোট বহিষ্কারের প্রায় ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড পাওয়া গেছে। অর্থাৎ প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার বহিষ্কারের মধ্যে আনুমানিক ১ লাখ ৯০ হাজার ব্যক্তির অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত দুই বছর বসবাসের পর বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৭১ শতাংশের কোনো অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড ছিল না। অন্তত ১০ বছর ধরে দেশটিতে বসবাসকারীদের মধ্যে এই হার ছিল ৬১ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কৃতদের মধ্যে অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের অনুপাত ছিল প্রায় ৩১ শতাংশ। ২০০৯ থেকে ২০২১ অর্থবছর পর্যন্ত এ ধরনের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের গড় হার ছিল ৪৪ শতাংশ।

এমপিআইয়ের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, বহিষ্কারের একটি অংশে অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ক্ষেত্রে। এর ফলে কিছু অভিবাসীকে দীর্ঘ ও জটিল অভিবাসন আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে না গিয়েই দেশ ছাড়তে হয়েছে।

প্রশাসনের দাবি ও স্বাধীন হিসাবের মধ্যে পার্থক্য

ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ৩০ লাখের বেশি অনথিভুক্ত অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে আনুমানিক ২২ লাখ স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়েছেন।

তবে এমপিআই বলছে, স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্থলপথে দেশত্যাগের সব তথ্য সরকার সংগ্রহ করে না। ফলে বহিষ্কারের বাইরে কতজন নিজ উদ্যোগে দেশ ছেড়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায় না।

প্রতিষ্ঠানটির অনুমান, অন্তত এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যে বহিষ্কার ও স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ মিলিয়ে মোট দেশত্যাগের সংখ্যা ৭ লাখ ৯০ হাজার থেকে ১৯ লাখের মধ্যে হতে পারে। সীমান্তে তাৎক্ষণিকভাবে ফিরিয়ে দেওয়া ব্যক্তি এবং এক বছরের কম সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করলে এই অনুমান ১৩ লাখ থেকে ২৪ লাখে পৌঁছাতে পারে।

এমপিআইয়ের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রশাসনের ঘোষিত ৩০ লাখ দেশত্যাগের দাবির সঙ্গে স্বাধীনভাবে পাওয়া তথ্যের পুরোপুরি মিল নেই। সরকারি হিসাবের মধ্যে বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসী কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কেউ কেউ অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকতে পারেন—বিশেষ করে সরকারের ‘প্রজেক্ট হোমকামিং’ কর্মসূচির আওতায় দেশত্যাগের ক্ষেত্রে। এই কর্মসূচিতে দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের বিনা মূল্যে বিমান টিকিট এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬০০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

তথ্য প্রকাশ কমে যাওয়ায় হিসাব করা কঠিন

এমপিআইয়ের গবেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে অভিবাসন আইন প্রয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত মাসিক তথ্য নিয়মিত প্রকাশ না করায় বহিষ্কারের প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া নথি এবং অন্যান্য সরকারি রেকর্ড বিশ্লেষণ করে হিসাব তৈরি করতে হয়েছে।

এমপিআইয়ের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিবিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক ডরিস মেইসনার বলেন, অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারে যখন বিপুল অর্থ ও নীতিগত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তখন এই বিশ্লেষণ অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রবণতা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বহিষ্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রশাসনকে বিভিন্ন বাধারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কিছু দেশ তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ছাড়া অভিবাসন আদালতে মামলার জট, আটকাদেশের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতার সীমাবদ্ধতা বহিষ্কার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে বহিষ্কারের হিসাব পাওয়া গেলেও তা প্রশাসনের ঘোষিত বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম। একই সঙ্গে বহিষ্কৃতদের মধ্যে অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের অনুপাত, সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ আটকের পার্থক্য এবং স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে এমপিআইয়ের বিশ্লেষণ।

সূত্র: মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ