যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অর্থবছর ২০২৭ শুরুর আগে গ্রিন কার্ডসংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভিসা বুলেটিনে কাটঅফ তারিখের পরিবর্তন, গ্রিন কার্ডের আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ, পাবলিক চার্জ যাচাইয়ের নতুন নিয়ম এবং EB-5 আবেদনকারীদের ফি পরিবর্তন। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য এসব পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হলেও সব পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। আবেদনকারীর ভিসা ক্যাটাগরি, অগ্রাধিকারের […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অর্থবছর ২০২৭ শুরুর আগে গ্রিন কার্ডসংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভিসা বুলেটিনে কাটঅফ তারিখের পরিবর্তন, গ্রিন কার্ডের আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ, পাবলিক চার্জ যাচাইয়ের নতুন নিয়ম এবং EB-5 আবেদনকারীদের ফি পরিবর্তন।
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য এসব পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হলেও সব পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। আবেদনকারীর ভিসা ক্যাটাগরি, অগ্রাধিকারের তারিখ (প্রায়োরিটি ডেট) এবং কোন দেশের কোটা প্রযোজ্য হচ্ছে—এসব বিষয়ের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।
অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিনে কর্মসংস্থানভিত্তিক কয়েকটি গ্রিন কার্ড ক্যাটাগরিতে কাটঅফ তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।
EB-2 ক্যাটাগরিতে বেশিরভাগ দেশের জন্য Final Action Date ১ জানুয়ারি ২০২৫ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এ তারিখ ‘কারেন্ট’ ছিল। অর্থাৎ চূড়ান্তভাবে গ্রিন কার্ড অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর প্রাথমিক তারিখ নির্ধারিত তারিখের আগে হতে হবে।
EB-3 ক্যাটাগরিতেও পরিবর্তন এসেছে। বেশিরভাগ দেশের জন্য Final Action Date ১৫ মে ২০২৪ করা হয়েছে।
তবে ভারতের মতো কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ক্যাটাগরিতে ভিন্ন তারিখ প্রযোজ্য হয়েছে।
অক্টোবর ২০২৬-এ কর্মসংস্থানভিত্তিক এবং পরিবারভিত্তিক অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস আবেদনের ক্ষেত্রে USCIS Dates for Filing চার্ট ব্যবহার করছে।
এর ফলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কিছু আবেদনকারী Final Action Date-এ পৌঁছানোর আগেই Form I-485 জমা দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
তবে Dates for Filing এবং Final Action Date এক বিষয় নয়। প্রথমটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আবেদন জমা দেওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করে। অন্যদিকে Final Action Date চূড়ান্তভাবে ভিসা নম্বর ব্যবহারের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাই I-485 জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড অনুমোদন হয়ে যাবে—এমন নয়।
গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য Public Charge সংক্রান্ত নিয়মেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন নিয়ম ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা ব্যবহারের বিষয়সহ তাদের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হতে পারে। এর মধ্যে বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক অবস্থা, সম্পদ ও দায়, শিক্ষা এবং দক্ষতার মতো বিষয় থাকতে পারে।
তবে কোনো সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই একজন আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ডের জন্য অযোগ্য হয়ে যাবেন—এমন নয়। কোন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নিয়মটি প্রযোজ্য হবে, তা তার অভিবাসন শ্রেণি ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে Form I-485-এর নতুন সংস্করণও এসেছে। ফলে আবেদন জমা দেওয়ার আগে USCIS-এর সর্বশেষ ফর্ম ও নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার EB-5 কর্মসূচিতেও ফি পরিবর্তন করা হয়েছে।
৩০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নির্দিষ্ট EB-5 আবেদনের ফি বাড়ানোর কথা রয়েছে। প্রধান বিনিয়োগকারী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার হবে।
Regional Center-এর মাধ্যমে আবেদন করা বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে ফি ৭ হাজার ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু পুরোনো EB-5 বিনিয়োগকারীর জন্য নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে ১০ হাজার ৩৩০ ডলারের ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশি আবেদনকারীরা সাধারণত ভিসা বুলেটিনের ‘All Chargeability Areas Except Those Listed’ কলামের অধীনে পড়েন।
অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, এই কলামে EB-2 ক্যাটাগরির Final Action Date ১ জানুয়ারি ২০২৫ এবং EB-3 ক্যাটাগরির ১৫ মে ২০২৪ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে Dates for Filing চার্টে EB-2-এর তারিখ ১৫ মার্চ ২০২৬ এবং EB-3-এর তারিখ ১ আগস্ট ২০২৪।
পরিবারভিত্তিক F2A ক্যাটাগরিতেও পরিবর্তন রয়েছে। গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানের জন্য বাংলাদেশের ক্ষেত্রে Final Action Date ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ করা হয়েছে। তবে Dates for Filing চার্টে F2A ‘Current’ রয়েছে।
গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে শুধু ভিসা বুলেটিনের একটি তারিখ দেখেই আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। কোন ক্যাটাগরিতে আবেদন করা হচ্ছে, আবেদনকারীর প্রাথমিক তারিখ কত এবং কোন চার্ট ব্যবহার করা হচ্ছে—এসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।
বিশেষ করে Dates for Filing এবং Final Action Date-এর পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন জমা দেওয়ার যোগ্যতা তৈরি হলেও চূড়ান্ত গ্রিন কার্ড পেতে আরও সময় লাগতে পারে।
তাই ২০২৭ অর্থবছর শুরুর আগে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের নিজেদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী সর্বশেষ ভিসা বুলেটিন ও USCIS-এর নির্দেশনা দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
সূত্র: আমেরিকা বাংলা