বিশ্বজুড়ে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী ও রাসায়নিক পদার্থে দূষিত খাবার খেয়ে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের খাদ্যজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে অল্পবয়সী শিশুরা। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ডব্লিউএইচওর এক বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৪টি দেশের […]
প্রতীকী ছবি
বিশ্বজুড়ে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী ও রাসায়নিক পদার্থে দূষিত খাবার খেয়ে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের খাদ্যজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে অল্পবয়সী শিশুরা।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ডব্লিউএইচওর এক বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৪টি দেশের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৮৮ কোটি ৬০ লাখ মানুষ অনিরাপদ খাদ্যের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। শিশুদের দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং পুষ্টিগত ঝুঁকির কারণে তারা এসব রোগে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা শুধু একটি নীতিগত বিষয় নয়, এটি প্রতিদিনের জীবন, প্রতিটি পরিবার এবং মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাঁর মতে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এখন বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০০০ সালের তুলনায় খাদ্যজনিত অসুস্থতার হার কিছুটা কমলেও অঞ্চলভেদে বৈষম্য এখনো স্পষ্ট। বিশেষ করে আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে খাদ্যবাহিত রোগের প্রায় ৭৫ শতাংশ ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে এসব অঞ্চলে খাদ্যবাহিত রোগে মৃত্যুর হারও তুলনামূলক বেশি, যা বৈশ্বিক মৃত্যুর প্রায় ৬০ শতাংশ।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১ সালে প্রায় ৮৬ কোটি মানুষ ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত খাদ্য দূষণের কারণে অসুস্থ হয়েছেন। তবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে রাসায়নিক দূষণের প্রভাব বেশি ছিল। বিশেষ করে আর্সেনিক ও সিসাজনিত বিষক্রিয়াকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
ডব্লিউএইচওর খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক কারিগরি কর্মকর্তা ইউকি মিনাতো বলেন, খাদ্যবাহিত রোগ এখন শুধু একটি স্থায়ী সমস্যা নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তন এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধক্ষমতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্য দূষণের ঝুঁকি বাড়ছে এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার চিকিৎসাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
প্রতিবেদনে অনিরাপদ খাদ্যের অর্থনৈতিক প্রভাবও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে খাদ্যবাহিত রোগের কারণে উৎপাদনশীলতা কমে গিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রায় ৬৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি জনগণের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত জরুরি।