সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
১:২৩ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২৬

মার্কিন সেনাদের মোবাইল ভিডিও দেখে হামলার লক্ষ্য ঠিক করছে ইরান: রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাসদস্যদের সংবেদনশীল মোবাইল ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তা ব্যবহার করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার নিখুঁত লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট) নির্ধারণ করছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এ সতর্কবার্তার কথা উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক গোপনীয় চিঠিতে সতর্ক করে জানান, গত ২৮ জুলাই […]

মার্কিন সেনাদের মোবাইল ভিডিও দেখে হামলার লক্ষ্য ঠিক করছে ইরান: রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাসদস্যদের সংবেদনশীল মোবাইল ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তা ব্যবহার করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার নিখুঁত লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট) নির্ধারণ করছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এ সতর্কবার্তার কথা উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক গোপনীয় চিঠিতে সতর্ক করে জানান, গত ২৮ জুলাই সেনাসদস্যদের অপারেশনাল সিকিউরিটি (OPSEC) কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের সংগৃহীত ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে সেনাদের পোস্ট করা প্রতিক্রিয়া, ছবি ও ভিডিও দেখে তেহরান খুব সহজেই নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ (ব্যাটল ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট) রিয়েল-টাইমে মূল্যায়ন করতে পারছে।

নির্দিষ্ট ভিডিও উদাহরণ ও স্মার্ট গ্লাসের অপব্যবহার

অ্যাডমিরাল কুপার চিঠিতে উদাহরণ দিয়ে জানান, গত ১৭ জুলাই জর্ডানের মোওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় এক মার্কিন সেনাসদস্য তাঁর ‘মেটা স্মার্ট গ্লাস’ (স্মার্ট চশমা) দিয়ে বাংকারে আশ্রয় নেওয়ার ভিডিও ধারণ করে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনীর ইলেকট্রনিক জ্যামিংসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষামূলক কৌশলের কারণে ইরান সাধারণত তাদের হামলা ফাঁকা রানওয়েতে নাকি জনাকীর্ণ স্থানে আঘাত হেনেছে তা জানতে পারে না। কিন্তু এই ধরনের খোলামেলা ভিডিও ও ক্ষয়ক্ষতির বিশ্লেষণ প্রকাশ পাওয়ায় ইরান কোনো খরচ ছাড়াই বিনামূল্যে তাদের হামলার নিখুঁত হিসাব পেয়ে যাচ্ছে, যা তাদের দ্বিতীয় দফায় আরও প্রাণঘাতী হামলা চালাতে সাহায্য করতে পারে।

মোবাইল ফোন জব্দের আশঙ্কা ও সেনাপরিবারে উদ্বেগ

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন কিছু ঘাঁটির মার্কিন সেনাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন জমা নেওয়ার প্রাথমিক নির্দেশ বা নীতিগত সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা হচ্ছে বলে রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স জানান, এই বার্তাটি মূলত সেনাসদস্যদের অপারেশনাল নিরাপত্তার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেওয়ার অংশ।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি ইরানের ওপর মার্কিন হামলায় সাধারণ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি (যেমন হরমোজগান প্রদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সিএনএন-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসা শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ১৫৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা) ও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া নিয়ে মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও সাধারণ জনগণের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ