দীর্ঘদিনের সংঘাত ও উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী রোববার (১৪ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হতে পারে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি […]
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের সংঘাত ও উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী রোববার (১৪ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হতে পারে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি বড় ধরনের সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
তবে ট্রাম্পের আশাবাদী বক্তব্যের বিপরীতে ইরানের অবস্থান অনেক বেশি সতর্ক। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং আলোচনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু, ধাপে ধাপে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার কাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এছাড়া চুক্তির আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতপূর্ণ এলাকায় উত্তেজনা কমানোর বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে ইরানের আটকে থাকা বৈদেশিক সম্পদ মুক্ত করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো পূর্ণ সমঝোতা হয়নি।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এই সমঝোতাকে ‘ইসলামাবাদ ঘোষণা’ বা ‘ইসলামাবাদ অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে অভিহিত করা হতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই নাম বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে এটি হবে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপের সূচনা। এর মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের বক্তব্যে এখনো স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ওয়াশিংটন যেখানে চুক্তিকে প্রায় চূড়ান্ত বলে উপস্থাপন করছে, তেহরান সেখানে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের কথা স্বীকার করেনি। ফলে জেনেভায় সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আশাবাদ তৈরি হলেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।
সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স