মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই কঠোর অভিবাসন নীতি নিয়ে আলোচনায় ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক চাপ ও শ্রমবাজারের সংকট তাকে বারবার ইউটার্ন নিতে বাধ্য করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও রেস্তোরাঁ শিল্প সরাসরি অভিবাসী শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল। নীতি পরিবর্তনের ফলে শ্রমিক সংকট তৈরি হলে উৎপাদন, প্রবৃদ্ধি ও বাজারে বড় ধরনের চাপ পড়বে এমন সতর্কবার্তা […]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই কঠোর অভিবাসন নীতি নিয়ে আলোচনায় ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক চাপ ও শ্রমবাজারের সংকট তাকে বারবার ইউটার্ন নিতে বাধ্য করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও রেস্তোরাঁ শিল্প সরাসরি অভিবাসী শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল। নীতি পরিবর্তনের ফলে শ্রমিক সংকট তৈরি হলে উৎপাদন, প্রবৃদ্ধি ও বাজারে বড় ধরনের চাপ পড়বে এমন সতর্কবার্তা আসছে অর্থনীতিবিদ ও শিল্পখাতের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে।
শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, হাইতি, ভেনেজুয়েলা প্রভৃতি দেশ থেকে আসা প্রায় ১১ লাখ অভিবাসী বৈধ অবস্থান হারাতে পারেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ০.৮ শতাংশ। কৃষি খামারে মৌসুমি কর্মী, নির্মাণ প্রকল্পে দিনমজুর কিংবা হোটেল-রেস্তোরাঁয় কাজ করা হাজারো শ্রমিকের অভাব ইতিমধ্যেই প্রকল্প পিছিয়ে দিচ্ছে, ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এদিকে,নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায়ের বড় অংশ রেস্তোরাঁ, ট্যাক্সি-রাইডশেয়ার, ডেলিভারি সার্ভিস ও হোটেল শিল্পে কাজ করেন। স্থানীয় বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসাগুলোর পক্ষ থেকেও অভিযোগ এসেছে যে অভিবাসন প্রক্রিয়া কঠোর হওয়ায় তারা দক্ষ কর্মী পাচ্ছেন না। ফলে খরচ বেড়ে যাচ্ছে, আর্থিক চাপ বাড়ছে এবং ব্যবসার স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে।
জ্যাকসন হাইটসের এক বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী বলেন, কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। আগে সহজেই অভিবাসী কর্মীরা কাজ নিতেন। এখন ভিসা ও নথিপত্রের জটিলতায় তারা আসতে ভয় পান। এতে আমাদের ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতির মুখে।
শিল্পখাতের এই চাপ ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন এখন কিছু নীতিতে ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও রাজনৈতিক বক্তব্যে অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থান অটুট রাখা হচ্ছে, বাস্তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা মেনে প্রশাসন ইউটার্ন নিচ্ছে।
তবে বাংলাদেশিসহ লাখো অভিবাসী শ্রমিকের জন্য ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে টিপিএস, ভিসাধারী কিংবা নথিহীন শ্রমিকরা এখনো দুশ্চিন্তায়। অনেকের পরিবার ভিসা অনিশ্চয়তায় বিপাকে পড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে ট্রাম্প প্রশাসন আরও নীতি পরিবর্তন বা সমন্বয় করতে বাধ্য হবে। তবে এর মধ্যেই অভিবাসী সম্প্রদায়ের জীবন ও কর্মজীবন ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই চলছে।