আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) এখতিয়ারকে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। আদালতের প্রভাব সীমিত করতে নতুন কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা। সোমবার (১৩ জুলাই) রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, বিশেষ করে মার্কিন সামরিক সদস্য ও সরকারি […]
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) এখতিয়ারকে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। আদালতের প্রভাব সীমিত করতে নতুন কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা। সোমবার (১৩ জুলাই) রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, বিশেষ করে মার্কিন সামরিক সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত বা বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির থাকা উচিত নয়।
এর আগে চলতি বছর রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশে মার্কিন সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা বা মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে আইসিসির সম্ভাব্য তদন্ত ঠেকানোর লক্ষ্যেই আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তা জানান, আইসিসির বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, ভিসা বাতিল, আদালত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন দেশকে আইসিসি থেকে সরে আসতে কূটনৈতিকভাবে উৎসাহিত করা।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা এবং আগ্রাসনের মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে। কোনো সদস্য রাষ্ট্র নিজে বিচার করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হলে আদালত তার এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আইসিসির সদস্য হয়নি।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই আইসিসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। দ্বিতীয় মেয়াদেও সেই অবস্থান বহাল রয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির পদক্ষেপের পর আদালতের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
গত মাসে আইসিসির তিন বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ, গত বছর তাদের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা আইনবিরোধী ছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইসিসির সদস্যপদ থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। এর লক্ষ্য, আদালত যেন ভবিষ্যতে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারে।
২০২০ সালে আফগানিস্তানে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করেছিল আইসিসি, যেখানে মার্কিন বাহিনীর কর্মকাণ্ডও তদন্তের আওতায় ছিল। তবে ২০২১ সাল থেকে আদালত তদন্তের অগ্রাধিকার পরিবর্তন করে আফগান সরকার ও তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতা বা সামরিক সহায়তা গ্রহণ করে, তাদের আইসিসির এখতিয়ার প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য রাখবে কোন দেশ মার্কিন অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানায় এবং কোন দেশ তা করে না। তার দাবি, বিদেশে দায়িত্ব পালনকারী মার্কিন নাগরিক ও সেনাসদস্যদের সুরক্ষার স্বার্থেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স