বর্তমান বিশ্ব বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশের স্বর্ণ বাজারেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) স্বর্ণের দাম ভরিতে ২,৬১৩ টাকা বৃদ্ধি ঘোষণা করে। এর ফলে আজ, ১৬ অক্টোবর ২০২৫, দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাজুসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আজ ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২ […]
বর্তমান বিশ্ব বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশের স্বর্ণ বাজারেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) স্বর্ণের দাম ভরিতে ২,৬১৩ টাকা বৃদ্ধি ঘোষণা করে। এর ফলে আজ, ১৬ অক্টোবর ২০২৫, দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বাজুসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আজ ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এটি দেশের স্বর্ণবাজারের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৬ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৭৭ হাজার ১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৫১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্ব বাজারে সোনার দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রাস্ফীতি, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব দেখা যাচ্ছে। যারা সোনায় বিনিয়োগ করেন, তাদের সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে গয়না ক্রেতাদের জন্য খরচ বেড়েছে। এছাড়া বিবাহ, উৎসব ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে স্বর্ণের ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ হতে পারে দাম বাড়ার কারণে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে দেখা যায়, স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়া মুদ্রাস্ফীতির সংকেতও বহন করে, যা অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বাজারের বর্তমান এই পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা যথেষ্ট জরুরি।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, বিক্রয়মূল্যে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট অবশ্যই যুক্ত করতে হবে। এছাড়া গয়নার ডিজাইন ও মানের ভিত্তিতে ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি প্রযোজ্য হলেও, বিভিন্ন ডিজাইনে মজুরির পার্থক্য থাকতে পারে। এই নিয়মাবলী ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু লেনদেন নিশ্চিত করে।
২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬৫ বার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এদের মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৪৭ বার এবং কমানো হয়েছে ১৮ বার। তুলনামূলকভাবে, ২০২৪ সালে দাম সমন্বয় হয়েছিল ৬২ বার, যার মধ্যে ৩৫ বার দাম বাড়ানো ও ২৭ বার দাম কমানোর ঘটনা ঘটেছিল। এটি দেখায় যে, চলতি বছর স্বর্ণের বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রবণতা বেশি সক্রিয়।
উপসংহার: স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির এই ধারা ভবিষ্যতেও চলতে পারে, বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা থাকলে। তাই ক্রেতাদের সাবধানতা অবলম্বন করে বিনিয়োগ বা গয়না ক্রয় করা উচিত। স্বর্ণের বাজারের গতিবিধি মনিটর করা এবং বাজুসের নিয়মাবলী অনুসরণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।