বর্তমান বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ক্রমাগত উর্ধ্বমুখী থাকায় বাংলাদেশেও তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দেশের স্বর্ণের বাজারে নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), যা গত মঙ্গলবারের তুলনায় প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৬১৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিবর্তন দেশের বাজারে স্বর্ণ কেনাবেচায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন তালিকা আজকের […]
বর্তমান বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ক্রমাগত উর্ধ্বমুখী থাকায় বাংলাদেশেও তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দেশের স্বর্ণের বাজারে নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), যা গত মঙ্গলবারের তুলনায় প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৬১৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিবর্তন দেশের বাজারে স্বর্ণ কেনাবেচায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন তালিকা
আজকের ঘোষিত দামের ভিত্তিতে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ৪৯৯ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৭৭ হাজার ১ টাকা। সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৫১ টাকা করা হয়েছে।
মূল্য নির্ধারণের পেছনের কারণ এবং সরকারের ভূমিকা
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করা বাধ্যতামূলক। তবে, গয়নার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির হার কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। এর ফলে স্বর্ণের দাম শুধু কাঁচা সোনার মূল্যেই নির্ভর করে না, গয়নার নকশা ও মানের ওপরও মূলত নির্ভরশীল।
রুপার দাম: স্থিতিশীল কিন্তু ইতিহাসে সর্বোচ্চ
স্বর্ণের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম প্রতি ভরি ৬ হাজার ২০৫ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অন্য ক্যারেটের রুপার দামও যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৯১৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৮০২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ও পাঠকের জন্য গুরুত্ব
স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বর্ণ কেনার আগে বাজারের চলমান অবস্থা বুঝে নেওয়া জরুরি। দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মজুরি ও ভ্যাটের প্রভাবও বিবেচনায় রাখতে হবে। এছাড়া গয়নার মান ও ডিজাইন ভালোভাবে যাচাই করে ক্রয় করলে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
স্বর্ণের দাম বাড়ার এই প্রবণতা বাংলাদেশের বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে এবং বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন সময়ের দাবি। আপনারা যেন সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণের বাজারে অংশগ্রহণ করতে পারেন, সেজন্য এই তথ্যগুলো দেওয়া হলো।