যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আলোচনায় তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপের তথ্য নিশ্চিত করেছে […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আলোচনায় তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপের তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আলোচনায় আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও সামরিক পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ড চলমান সমঝোতা লঙ্ঘনের ইঙ্গিত বহন করছে এবং তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী এবং দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকেরও লঙ্ঘন। এমন পরিস্থিতিতে তেহরান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে আরাগচি বলেন, ইরান কোনো সংঘাত উসকে দিতে চায় না। তবে দেশের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা কিংবা জনগণের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে পাকিস্তানকে অবহিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করেছে।
ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চলমান উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরান জানায়, তারা আত্মরক্ষার অধিকার সংরক্ষণ করে এবং যেকোনো আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান-পাকিস্তানের এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।