আফগানিস্তানের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে তালেবান সরকার। দেশটির একটি সামরিক আদালতের নির্দেশনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিচারকসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। আদেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ফোন জব্দ ও ধ্বংস করা হতে পারে এবং আইন অনুযায়ী শাস্তির মুখোমুখিও হতে হবে। […]
ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে তালেবান সরকার। দেশটির একটি সামরিক আদালতের নির্দেশনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিচারকসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। আদেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ফোন জব্দ ও ধ্বংস করা হতে পারে এবং আইন অনুযায়ী শাস্তির মুখোমুখিও হতে হবে।
সরকারি কর্মচারীদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ইতোমধ্যেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কারণ বহু দাপ্তরিক যোগাযোগ ও কাজ মোবাইল ফোন, বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ এবং ই-মেইলের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।
দেশটির কয়েকটি প্রাদেশিক প্রশাসন ইতোমধ্যে নিজ নিজ কার্যালয়ে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে পাঞ্জশির প্রদেশের প্রশাসন সব সরকারি অফিসে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কথা জানিয়েছে।
এদিকে মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এই পদক্ষেপের ফলে তথ্যপ্রাপ্তি, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ আরও সংকুচিত হতে পারে। তাদের মতে, শিক্ষা গ্রহণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করা এবং সেন্সরশিপবিহীন তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে স্মার্টফোন আফগানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর তালেবান জনজীবনের ওপর যে নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি গ্রহণ করেছে, স্মার্টফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। এর আগে নারী শিক্ষা, গণমাধ্যম এবং নাগরিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তালেবান প্রশাসন।