সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিশ্ব
৬:৫১ এএম, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

আফগানিস্তান ভারতের কৌশলগত হাতিয়ার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সরাসরি অভিযোগ ও হুঁশিয়ারি

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এক কঠোর বক্তব্যে দাবি করেছেন, আফগানিস্তান বর্তমানে ভারতের প্রভাবশালী একটি ‘পুতুল’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার মাধ্যমে ভারত সন্ত্রাস ছড়ানোর চক্রান্ত করছে। তিনি আরও বলেন, যদি কাবুল ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণ চালায়, তবে পাকিস্তান তাদেরকে ‘৫০ গুণ শক্তিশালী’ প্রতিক্রিয়া দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত জিও নিউজের জনপ্রিয় প্রাইমটাইম […]

আফগানিস্তান ভারতের কৌশলগত হাতিয়ার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সরাসরি অভিযোগ ও হুঁশিয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এক কঠোর বক্তব্যে দাবি করেছেন, আফগানিস্তান বর্তমানে ভারতের প্রভাবশালী একটি ‘পুতুল’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার মাধ্যমে ভারত সন্ত্রাস ছড়ানোর চক্রান্ত করছে। তিনি আরও বলেন, যদি কাবুল ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণ চালায়, তবে পাকিস্তান তাদেরকে ‘৫০ গুণ শক্তিশালী’ প্রতিক্রিয়া দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত জিও নিউজের জনপ্রিয় প্রাইমটাইম অনুষ্ঠান ‘আজ শাহজেব খানজাদা’র সঙ্গে আলাপে আসিফ আফগান প্রতিনিধি দলের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকার শান্তি চুক্তি থেকে হঠাৎ পিছু হটায় পাকিস্তান গভীরভাবে হতাশ। বিশেষ করে ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার নাটকীয়ভাবে ভাঙার পর এই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেয়েছে।

আসিফের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘গত কয়েক দিনের আলোচনাগুলো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। আমাদের কাছে চুক্তি ছিল, কিন্তু কাবুল হঠাৎ ফোন করে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।’ এই অবস্থায় তিনি আফগানিস্তানকে ‘ভারতের পুতুল’ বলেও উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, কাবুলের কিছু অংশকে দিল্লি নিয়ন্ত্রণ করছে, যা পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি।

পাকিস্তানের এই অভিযোগকে কাবুল সরকার আগেও ‘ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু আসিফ আরও বলেন, ‘ভারত তাদের পশ্চিম সীমান্তে হওয়া ব্যর্থতা কাবুলের মাধ্যমে পূরণ করছে। আফগানিস্তানের কিছু সামরিক শাসকগোষ্ঠী ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে এবং তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও একটি কম তীব্রতার যুদ্ধ চালাতে চাইছে।’

প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আফগানিস্তান ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে, তাহলে পাকিস্তান তাদের বিরুদ্ধে ‘৫০ গুণ শক্তিশালী’ জবাব দেবে। এই বক্তব্য পাকিস্তান-ভারত সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ইঙ্গিত বহন করে।

পশ্চিম এশিয়ার এই জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল। আফগানিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং এর সামরিক শক্তি প্রভাবশালী দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের এই অভিযোগ ও হুঁশিয়ারি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের পটভূমিতে আফগানিস্তানের ভূমিকাকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে চিহ্নিত করা মানে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও শান্তির সম্ভাবনাগুলোকে আরও ঝুঁকিতে ফেলা। আফগানিস্তানের শান্তি আলোচনার ব্যর্থতা এবং ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে।

পাঠকদের জন্য এই সংবাদ গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি শুধু একটি দেশীয় রাজনৈতিক বিবাদ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত। এ ধরনের উত্তেজনা সাম্প্রতিককালে সন্ত্রাসবাদ, সীমান্ত সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ানোর সম্ভাবনা বহন করে, যা সাধারণ মানুষের জীবন ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ