কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মুসলিম ব্রাদারহুড, সুদানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জাতিসংঘকে ঘিরে জনমত প্রভাবিত করার একটি সমন্বিত প্রচারণা শনাক্ত ও ব্যাহত করার দাবি করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, ওই কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের কর্মকর্তাদের যোগসূত্র রয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক হুমকি বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিক জানায়, একজন ব্যক্তি তাদের এআই সহকারী […]
ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মুসলিম ব্রাদারহুড, সুদানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জাতিসংঘকে ঘিরে জনমত প্রভাবিত করার একটি সমন্বিত প্রচারণা শনাক্ত ও ব্যাহত করার দাবি করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, ওই কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের কর্মকর্তাদের যোগসূত্র রয়েছে।
১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক হুমকি বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিক জানায়, একজন ব্যক্তি তাদের এআই সহকারী ক্লড ব্যবহার করে মুসলিম ব্রাদারহুডকে বিশ্বব্যাপী দুর্বল করার লক্ষ্যে আটলান্টিক অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি সমন্বিত প্রভাব বিস্তার অভিযান পরিচালনা করেন।
অ্যানথ্রপিকের তথ্য অনুযায়ী, এ কার্যক্রমে প্রায় ৩০০টি ভুয়া বা অপ্রামাণিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছিল। এসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মুসলিম ব্রাদারহুড, সুদানের সংঘাত এবং জাতিসংঘের জবাবদিহি নিয়ে নির্দিষ্ট বয়ান ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লড ব্যবহার করে সুইজারল্যান্ডের একটি বাস্তব সংগঠনের পরিচয় নকল করে একটি ভুয়া বেসরকারি সংস্থা তৈরি করা হয়। পরে ওই সংস্থার নামে মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৬২তম অধিবেশনে দুজনের মাধ্যমে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে বক্তব্য ও সাক্ষ্যও এআইয়ের সাহায্যে প্রস্তুত করা হয় বলে জানিয়েছে অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব বক্তব্য এমনভাবে লেখা হয়েছিল যাতে সেখানে ইউএইর নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকে।
অ্যানথ্রপিক আরও জানায়, ক্লড ব্যবহার করে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ১৮ সদস্য এবং কয়েকজন প্রভাবশালী সাংবাদিকের বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণা ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছিল। সুদানে ইউএইর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকদের বিরুদ্ধেও জবাবদিহিমূলক নথি তৈরির কাজ করা হয়।
অ্যানথ্রপিকের তদন্তে বলা হয়েছে, পুরো কার্যক্রমটি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে এর প্রকৃত উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়। তবে তদন্ত শেষে প্রতিষ্ঠানটি ওই অভিযানের সঙ্গে ইউএই সরকারের কর্মকর্তাদের উচ্চমাত্রার নিশ্চয়তার সঙ্গে যোগসূত্র শনাক্ত করার দাবি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আমিরাতি কর্মকর্তা এই কার্যক্রমে তৈরি নথি ও তথ্য পাওয়ার জন্য নির্ধারিত ব্যক্তি ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো নেটওয়ার্কটির অর্থায়ন ও সমন্বয়ের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে অ্যানথ্রপিক।
তবে অ্যানথ্রপিক বলেছে, তৈরি করা বক্তব্য বা প্রস্তুত করা নথিগুলো শেষ পর্যন্ত তাদের নির্ধারিত শ্রোতা বা নীতিনির্ধারকদের কাছে সফলভাবে পৌঁছেছিল কি না, তা তারা নিশ্চিত করতে পারেনি।
সুদানের চলমান যুদ্ধে ইউএইর বিরুদ্ধে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) সমর্থনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একই সময়ে সুদানে ইউএইর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নানা প্রশ্ন ও জবাবদিহির দাবি উঠেছে।
অ্যানথ্রপিকের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রভাব বিস্তার অভিযানে সুদানের সংঘাতকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমন্বিত প্রচারণা চালানো হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বয়ানকে শক্তিশালী করা এবং বিরোধী অবস্থানকে দুর্বল করা।
অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট ক্লড অ্যাকাউন্ট ও কার্যক্রম বন্ধ করেছে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের অপব্যবহার শনাক্তে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা অংশীদারদের সঙ্গেও তথ্য ভাগ করেছে।