আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশের আমলারা প্রকৃতিগতভাবেই সংস্কারবিরোধী। এটি আমলাদের ব্যক্তিগত সমস্যা, নাকি পুরো ব্যবস্থার ত্রুটি—তা তিনি নিশ্চিত নন বলেও মন্তব্য করেন। সোমবার রাতে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের লেখা ‘বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বর্তমান আমলাতন্ত্রকে স্থবির উল্লেখ […]
ছবি: সংগৃহীত
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশের আমলারা প্রকৃতিগতভাবেই সংস্কারবিরোধী। এটি আমলাদের ব্যক্তিগত সমস্যা, নাকি পুরো ব্যবস্থার ত্রুটি—তা তিনি নিশ্চিত নন বলেও মন্তব্য করেন।
সোমবার রাতে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের লেখা ‘বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান আমলাতন্ত্রকে স্থবির উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, এই আমলাতন্ত্র দিয়ে দেশ কীভাবে এগোবে—এ নিয়ে তার গভীর দুশ্চিন্তা রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার থেকে বিদায় নেওয়ার পরও এই বিষয়টি তাকে ভাবাবে।
আইন উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য জানতে চাইলে অনেক কর্মকর্তা বলেন—‘স্যার, এটা তো আমার হোয়াটসঅ্যাপে নেই।’ একটি সিদ্ধান্ত খুঁজে বের করতেই দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে প্রায়ই তার অফিস সময় শেষ হয়ে যায়।
প্রধান উপদেষ্টার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার হোয়াটসঅ্যাপই যেন একটি পূর্ণাঙ্গ অফিস। প্রয়োজনীয় সব তথ্য সেখানে সংরক্ষিত ও নিয়মিত আপডেট করা হয়। অথচ তার মন্ত্রণালয়ের ২৯ থেকে ৩১ বছর বয়সী কর্মকর্তারা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেও কাজের গতি আনতে আগ্রহী নন।
বইটি নিয়ে আলোচনায় তিনি বলেন, উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান তার লেখায় আমলাতন্ত্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, অনেক কাজ তিনি সারা রাত জেগে প্রস্তুত করেন, কিন্তু দেখা যায়, সেগুলো কয়েক দিন পরও বাস্তবায়ন হয়নি। এ নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাঝে মাঝে তীব্র বাকবিতণ্ডাও হয় বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, পরে কর্মকর্তাদের ডেকে বুঝিয়ে বলি—তোমরা কেবল ফাইল চালাচালির জন্য নও; তোমরা কর্মকর্তা, তোমাদের মেধা ও মনন দিয়ে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুবউল্লাহসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।