সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে ভারত সবসময় আমিরাতের পাশে থাকবে।’ পাঁচ দেশীয় সফরের প্রথম ধাপে আবুধাবি পৌঁছানোর পর তিনি এ মন্তব্য করেন। আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে মোদিকে স্বাগত জানান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে […]
ছবি: সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে ভারত সবসময় আমিরাতের পাশে থাকবে।’
পাঁচ দেশীয় সফরের প্রথম ধাপে আবুধাবি পৌঁছানোর পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে মোদিকে স্বাগত জানান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়।
বিমানবন্দরেই দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রতিনিধিদল পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমি আমার দ্বিতীয় বাড়িতে এসেছি। এই অনুভূতিটি আমার জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে ভারত ও আমিরাত প্রতিটি ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করবে এবং যেকোনো সংকটে আমিরাতের পাশে দাঁড়াতে ভারত বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।’
মোদি মন্তব্য করেন, দুই দেশের সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক স্বার্থের ওপর নয়, বরং পারস্পরিক বিশ্বাস ও ঐতিহাসিক বন্ধনের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন আর কোনো আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং এটি সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমন একটি জটিল ও সংবেদনশীল সময়ে সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’
মোদি জোর দিয়ে বলেন, ‘যেকোনো আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের স্থায়ী এবং গ্রহণযোগ্য সমাধান কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।’
নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মোদির এই সফর ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল সংকটের মধ্যেও কীভাবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।