সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাত-ঘনিষ্ঠ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সৌদি সীমান্তঘেঁষা হাদরামাউত প্রদেশে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল-খাশাহ সামরিক শিবির পুনর্দখল করেছে সরকারপন্থি বাহিনী। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। এসটিসির এক কর্মকর্তা আমর আল বিদ অভিযোগ করেন, সৌদি আরব শান্তিপূর্ণ […]
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাত-ঘনিষ্ঠ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সৌদি সীমান্তঘেঁষা হাদরামাউত প্রদেশে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল-খাশাহ সামরিক শিবির পুনর্দখল করেছে সরকারপন্থি বাহিনী। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
এসটিসির এক কর্মকর্তা আমর আল বিদ অভিযোগ করেন, সৌদি আরব শান্তিপূর্ণ অভিযানের কথা বললেও বাস্তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সাতটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করতেই ‘শান্তিপূর্ণ অভিযান’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাদরামাউতের গভর্নর সালেম আল-খুনবাশি ‘হোমল্যান্ড শিল্ড’ বাহিনীর নেতৃত্বে সামরিক স্থাপনাগুলোতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় এসটিসি বাহিনী পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সরকারপন্থি অস্ত্রবোঝাই গাড়ি ডিসেম্বরে এসটিসির দখলে যাওয়া শিবিরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
ইয়েমেন টেলিভিশনে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় গভর্নর আল-খুনবাশি বলেন, এটি কোনো যুদ্ধ ঘোষণা নয়; বরং নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকা সামরিক ঘাঁটি ও হাদরামাউতকে বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষাই অভিযানের উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, এসটিসির মুখপাত্র মোহাম্মদ আল-নাকীব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কড়া প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে ইয়েমেনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেছেন, এসটিসি নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি সৌদি প্রতিনিধিদলকে দেশটিতে অবতরণ করতে দেননি। পাল্টা অভিযোগে এসটিসি বলেছে, রিয়াদ বিমান অবরোধের পথ বেছে নিয়েছে।
এই টানাপোড়েনের মধ্যে বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিসেম্বরে তেলের কোটা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইয়েমেনের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব থেকেই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আমিরাত দক্ষিণ ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী এসটিসিকে সমর্থন দিয়ে আসছে, যারা সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কাছ থেকে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা দখলে নেয়। এই পরিস্থিতিকে সৌদি আরব সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে।
এসটিসি ঘাঁটিতে বিমান হামলা, আমিরাতি সেনাদের ইয়েমেন ছাড়ার আলটিমেটাম এবং নিরাপত্তা চুক্তি বাতিলের ঘোষণার মধ্য দিয়ে দুই আঞ্চলিক মিত্র দেশের মধ্যে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।