ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য উত্তর কোরিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রোববার (১৯ জুলাই) রাশিয়া সফররত উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন হুই-এর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ক্রেমলিন প্রকাশিত বৈঠকের ভিডিওতে পুতিন বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-এ উত্তর কোরিয়ার সমর্থন মস্কোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “উত্তর […]
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য উত্তর কোরিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রোববার (১৯ জুলাই) রাশিয়া সফররত উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন হুই-এর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ক্রেমলিন প্রকাশিত বৈঠকের ভিডিওতে পুতিন বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-এ উত্তর কোরিয়ার সমর্থন মস্কোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “উত্তর কোরিয়ার সমর্থনের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তাদের সেনাদের সাহসিকতা ও অবদান রাশিয়া কখনো ভুলবে না এবং তাদের নিজেদের নাগরিকদের মতোই সম্মান জানাবে।”
বৈঠকে পুতিন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন-এর সঙ্গে তাঁর পারস্পরিক আস্থা ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
এর আগে শনিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ-এর আমন্ত্রণে সরকারি সফরে মস্কো পৌঁছান উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন হুই। সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের খবরও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এ ধরনের কিছু দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সহযোগিতার বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছ থেকে খাদ্য, জ্বালানি, আর্থিক সহায়তা এবং সামরিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা পেয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে পিয়ংইয়ং সফরকারী রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতি তাঁর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। সে সময় তিনি মস্কোর কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন।
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের আশঙ্কা, দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। অন্যদিকে মস্কো ও পিয়ংইয়ং বলছে, তাদের সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে।
সূত্র: ক্রেমলিন, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।