ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলমান নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এরই মধ্যে নেদারল্যান্ডসে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত ৪৮০ জন মানুষের মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ডাচ স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় […]
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলমান নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এরই মধ্যে নেদারল্যান্ডসে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত ৪৮০ জন মানুষের মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
ডাচ স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত মৃত্যুর বেশিরভাগই তীব্র গরমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি দেখা গেছে, কারণ এসব অঞ্চলে তাপমাত্রা দেশের অন্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।
চলতি বছরের জুন মাসে নেদারল্যান্ডসে তাপমাত্রা অতীতের অনেক রেকর্ড ভেঙেছে। মাসের শেষ দিকে দেশের কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে যায়, যা দেশটির জন্য অস্বাভাবিক এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ তাপমাত্রা বজায় থাকায় বয়স্ক মানুষ, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং দুর্বল শারীরিক অবস্থার মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। অতিরিক্ত গরমের কারণে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হলে হৃদরোগ, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
নেদারল্যান্ডসের পরিস্থিতি ইউরোপের সামগ্রিক চিত্রেরই প্রতিফলন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি এবং আরও কয়েকটি দেশে তাপপ্রবাহের কারণে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। ফ্রান্স ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে, আর স্পেনেও এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু তীব্র গরমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহ ইউরোপের ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে তীব্র দাবদাহগুলোর একটি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের চরম আবহাওয়া আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্র আকারে দেখা দিতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ইতোমধ্যে সতর্ক করে জানিয়েছে, ইউরোপজুড়ে চলমান এই তাপপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটির মতে, ইউরোপের বহু শহর ও অবকাঠামো এত উচ্চ তাপমাত্রা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত নয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকার বয়স্ক নাগরিকদের ঘরে থাকার পরামর্শ, পর্যাপ্ত পানি পান, শীতল স্থানে অবস্থান এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুত রাখার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি আবহাওয়াজনিত সংকট নয়, বরং এটি জনস্বাস্থ্য, নগর পরিকল্পনা এবং জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতার জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা।