রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডে জুন মাসেই নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিভিন্ন দেশে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে এবং হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও বেড়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের প্রধান কারণ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন। তাদের মতে, শিল্পবিপ্লবের পর থেকে জীবাশ্ম জ্বালানির […]
ছবি: সংগৃহীত
রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডে জুন মাসেই নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিভিন্ন দেশে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে এবং হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও বেড়ে গেছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের প্রধান কারণ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন। তাদের মতে, শিল্পবিপ্লবের পর থেকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহারের ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব এখন ইউরোপের আবহাওয়ায় দেখা যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের (ডব্লিউডব্লিউএ) বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কয়েক দশক আগে জুন মাসে এমন তীব্র তাপমাত্রা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ছিল না বললেই চলে। বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী।
গবেষণায় অংশ নেওয়া বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ১৯৭০-এর দশকে একই ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হলেও বর্তমানের তুলনায় তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি কম থাকত। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন একই আবহাওয়াগত পরিস্থিতিও অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা অঞ্চলগুলোর একটি। ফলে ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্র তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তাপপ্রবাহ, দাবানল, খরা ও অন্যান্য চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এদিকে ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনসহ কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং বিভিন্ন শহরে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা কার্যকর করা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতের আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।