ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রাক্কালে তেহরানের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে না চলে কিংবা প্রত্যাশিত আচরণ না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প […]
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রাক্কালে তেহরানের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে না চলে কিংবা প্রত্যাশিত আচরণ না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।
আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, এটি কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়। তার ভাষায়, এটি মূলত দুই পক্ষের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি, যার ভিত্তিতে পরবর্তী আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইরানের আচরণই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি তিনি মনে করেন যে তেহরান তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করছে না, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের আচরণ নিয়ে ওয়াশিংটনের গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। তার দাবি, ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরান ধারাবাহিকভাবে এমন নীতি অনুসরণ করেছে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এক বিমান হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যস্থতায় সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলতে থাকে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই দুই দেশের মধ্যে একটি বিস্তৃত আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেই আলোচনায় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ও বিস্তৃত কাঠামোগত চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে উভয় পক্ষ।
তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সম্ভাব্য এই চুক্তি স্বাক্ষরের পরও ওয়াশিংটন ইরানের প্রতি কঠোর অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে আসছে না। বরং চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।