লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম। তিনি বলেছেন, লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ইসরায়েলকে অবিলম্বে সব সামরিক উপস্থিতি গুটিয়ে নিতে হবে। শুক্রবার এক টেলিভিশন ভাষণে নাঈম কাসেম বলেন, সম্প্রতি হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলের লেবাননের ভেতরে অবস্থান করার কোনো সুযোগ নেই। তার মতে, […]
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম। তিনি বলেছেন, লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ইসরায়েলকে অবিলম্বে সব সামরিক উপস্থিতি গুটিয়ে নিতে হবে।
শুক্রবার এক টেলিভিশন ভাষণে নাঈম কাসেম বলেন, সম্প্রতি হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলের লেবাননের ভেতরে অবস্থান করার কোনো সুযোগ নেই। তার মতে, যুদ্ধবিরতি তখনই অর্থবহ হবে যখন উভয় পক্ষই চুক্তির সব শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময় সীমান্ত এলাকায় হামলা ও সামরিক তৎপরতার অভিযোগও উঠেছে।
ইসরায়েল এসব অভিযানের পক্ষে নিরাপত্তাজনিত কারণের কথা উল্লেখ করলেও হিজবুল্লাহ প্রধান দাবি করেন, প্রকৃত উদ্দেশ্য নিরাপত্তা নয়, বরং লেবাননের ভূখণ্ডে প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
নাঈম কাসেম বলেন, লেবাননের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেশটির জাতীয় সেনাবাহিনীর। বিদেশি কোনো বাহিনীর সেখানে অবস্থান করার নৈতিক বা আইনি ভিত্তি নেই।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির অর্থ একতরফা নীরবতা নয়। যদি একটি পক্ষ হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে অন্য পক্ষের প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হলে হিজবুল্লাহ প্রয়োজনীয় জবাব দিতে পিছপা হবে না।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার প্রসঙ্গ টেনে কাসেম দাবি করেন, ইরানের অবস্থান ও প্রতিরোধ নীতির কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে আসতে হয়েছে। তার ভাষায়, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
লেবাননের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিও আহ্বান জানান হিজবুল্লাহ প্রধান। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে দেশের সব পক্ষের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
কাসেমের মতে, দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠীর মতামত উপেক্ষা করে কোনো রাজনৈতিক সমাধান টেকসই হতে পারে না। তাই জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার ও প্রতিরোধশক্তির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।
ভাষণের শেষদিকে তিনি লেবাননের কর্তৃপক্ষকে বিদেশি প্রভাবের বাইরে থেকে দেশের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।