নিউইয়র্ক শহরে ই-বাইকের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। এ লক্ষ্যে প্রায় এক ডজন নতুন আইনগত উদ্যোগ নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি আগামী মাসে একটি বিশেষ তদারকি শুনানির আয়োজন করে শহরে ই-বাইক ব্যবস্থাপনা, নজরদারি এবং বিদ্যমান আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হবে। সিটি কাউন্সিলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক শহরে ই-বাইকের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। এ লক্ষ্যে প্রায় এক ডজন নতুন আইনগত উদ্যোগ নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি আগামী মাসে একটি বিশেষ তদারকি শুনানির আয়োজন করে শহরে ই-বাইক ব্যবস্থাপনা, নজরদারি এবং বিদ্যমান আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হবে।
সিটি কাউন্সিলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ই-বাইক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন আইন কার্যকর থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। তাই বিদ্যমান বিধিমালা আরও কার্যকর করার পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রয়োজন কি না, সেটিও মূল্যায়ন করা হবে।
এই পর্যালোচনার অংশ হিসেবে পথচারী, সাইকেল আরোহী, খাবার সরবরাহকারী (ডেলিভারি) কর্মী, পরিবহন বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হবে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই ই-বাইক নিয়ন্ত্রণে সিটি কাউন্সিলে একাধিক বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে তৃতীয় পক্ষের খাবার সরবরাহকারী অ্যাপগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর শহর প্রশাসনের নজরদারি এবং আইন প্রয়োগ আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরেকটি প্রস্তাবে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের চালকদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ এবং শহরজুড়ে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের বাধ্যবাধকতা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। আইনপ্রণেতাদের মতে, এর মাধ্যমে দায়িত্বজ্ঞানহীন বা ঝুঁকিপূর্ণভাবে ই-বাইক চালানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
সিটি কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা শন আব্রেউ বলেন, নিউইয়র্কের প্রতিটি বাসিন্দার নিরাপদে রাস্তা ব্যবহার করার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে ই-বাইক চালকদের নিরাপদে চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং খাবার সরবরাহকারী কর্মীদের জীবিকার প্রয়োজনের সঙ্গে জননিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি।
তিনি আরও বলেন, নতুন আইনগত উদ্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত গতির জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা, অবৈধ দ্রুতগতির ই-বাইক অপসারণ এবং বৈধ ই-বাইক ব্যবহারে আরও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও কয়েকটি নতুন বিল উত্থাপন করা হবে। এসব প্রস্তাবে ধীরগতির ই-বাইকের জন্য উপযুক্ত অবকাঠামো গড়ে তোলা, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বীমা বাধ্যতামূলক করা এবং ই-বাইক সংক্রান্ত আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নগর কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে ই-বাইক ব্যবহারে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং পথচারী ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।