ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার অভিযান চলাকালেই আবারও ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। সোমবার রাজধানী কারাকাসের উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানা এই পরাঘাত নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে উদ্ধারকর্মী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আফটারশকটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো প্রাণহানি বা বড় […]
ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার অভিযান চলাকালেই আবারও ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। সোমবার রাজধানী কারাকাসের উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানা এই পরাঘাত নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে উদ্ধারকর্মী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আফটারশকটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর পর দেশজুড়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
গত বুধবার ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব ভূমিকম্পে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক দশকের মধ্যে এটিকে দেশটির অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় প্রদেশ লা গুয়াইরা। সেখানে ধসে পড়া বহুতল ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসস্তূপে এখনও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হলে তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিচ্ছে।
উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ২ হাজার ৬০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী। তাদের সঙ্গে রয়েছে প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর এবং ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম। কংক্রিট ও লোহার স্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা জীবিত কাউকে উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এরপর সময় যত গড়ায়, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমে আসে। তবুও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত সম্ভাবনা থাকবে ততক্ষণ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়েও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত মানুষ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাই অভিযান বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং সরকার এখনো আশাবাদী।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো বসবাসের জন্য নিরাপদ কিনা তা মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষ প্রেসিডেন্সিয়াল কমিশন গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও এক সপ্তাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, লা গুয়াইরা অঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা করতে এগিয়ে আসা হাজারো স্বেচ্ছাসেবীর প্রশংসাও করেছে সরকার।
তবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে, যাতে জরুরি যানবাহন ও উদ্ধারকারী দলের চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।