যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংলাপকে শান্তি আলোচনার চেয়ে বরং পারস্পরিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন কৌশলগত বিশ্লেষক ও ‘অফ দ্য রেকর্ড স্ট্র্যাটেজিস’-এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক ফাইফেল। তার মতে, দুই পক্ষই এখন এমন অবস্থান নিচ্ছে যাতে বোঝা যায়, শেষ পর্যন্ত কে আগে ছাড় দেয়। তিনি বলেন, “এগুলো শান্তি আলোচনা নয়, এগুলো হলো চাপের লড়াই।” ফাইফেলের বিশ্লেষণ […]
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংলাপকে শান্তি আলোচনার চেয়ে বরং পারস্পরিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন কৌশলগত বিশ্লেষক ও ‘অফ দ্য রেকর্ড স্ট্র্যাটেজিস’-এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক ফাইফেল।
তার মতে, দুই পক্ষই এখন এমন অবস্থান নিচ্ছে যাতে বোঝা যায়, শেষ পর্যন্ত কে আগে ছাড় দেয়। তিনি বলেন, “এগুলো শান্তি আলোচনা নয়, এগুলো হলো চাপের লড়াই।”
ফাইফেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা, নৌ-শক্তি এবং অবরোধের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ তৈরি করছে। অপরদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে পাল্টা চাপ দিচ্ছে, যার ফলে আলোচনায় অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ ও অস্থিরতা বাড়ছে।
তার ভাষায়, “এটি মূলত এমন একটি প্রতিযোগিতা, যেখানে দেখা হচ্ছে—কোন পক্ষ নিয়ন্ত্রণ না হারিয়ে কতক্ষণ এই চাপ সহ্য করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন অনেকটাই ‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’ নীতিতে এগোচ্ছেন। কারণ, তার হাতে কার্যত বিকল্প কমে এসেছে এবং তিনি এখন ইরান সরকারের ধৈর্য ভেঙে পড়ার দিকেই তাকিয়ে আছেন।
ফাইফেল ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের কথাও তুলে ধরেন। তার দাবি, ইরানি রিয়াল দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে, আর ডলারের বিপরীতে মুদ্রাটির দর ভয়াবহভাবে নেমে গেছে। একই সঙ্গে রুটি ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে এবং মূল্যস্ফীতিও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফাঁস হওয়া গোয়েন্দা মূল্যায়ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ওই মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান বর্তমান চাপ আরও কয়েক মাস ধরে সামাল দিতে সক্ষম হতে পারে।
ফাইফেলের মতে, এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই পরিস্থিতির পর ট্রাম্প পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী করবেন। সেটি এখনও অনিশ্চিত।