চলমান ফিফা বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে ব্যস্ত বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ঠিক এমন সময় মাঠের বাইরের একটি বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে দেশটির ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। মানি লন্ডারিং ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সংস্থাটির কিছু আর্থিক কার্যক্রম তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং দেশটির ফেডারেল প্রসিকিউটররা। একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের […]
ছবি: সংগৃহীত
চলমান ফিফা বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে ব্যস্ত বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ঠিক এমন সময় মাঠের বাইরের একটি বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে দেশটির ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। মানি লন্ডারিং ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সংস্থাটির কিছু আর্থিক কার্যক্রম তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং দেশটির ফেডারেল প্রসিকিউটররা।
একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে এএফএর বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করেই এই তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কয়েক শ মিলিয়ন ডলারের লেনদেন কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় দেশটির প্রচলিত আর্থিক আইন বা বিধিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না।
কার্লোস তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন এএফএ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্জেন্টাইন ফুটবলের সবচেয়ে সফল সময় পার করছে। কোপা আমেরিকা জয়ের পাশাপাশি ২০২২ সালের বিশ্বকাপ শিরোপা এবং চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপেও দলটির সফল অগ্রযাত্রা সংস্থাটিকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। তবে এই সাফল্যের মাঝেই আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্নের মুখে পড়েছে তারা।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন জানিয়েছে, তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে এএফএর বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি, আন্তর্জাতিক স্পনসরশিপ, সম্প্রচারস্বত্ব এবং সেসব থেকে অর্জিত অর্থের ব্যবস্থাপনা। তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের তথ্যও সংগ্রহ করছেন।
এই তদন্তকে গত কয়েক বছরে আর্জেন্টাইন ফুটবলে সামনে আসা আর্থিক বিতর্কগুলোর ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ‘সুর ফিনানজাস’ নামের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে পৃথক মানি লন্ডারিং ও কর ফাঁকির অভিযোগে আর্জেন্টিনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এএফএর সদর দপ্তর এবং দেশটির কয়েকটি ক্লাবে অভিযান চালায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক লেনদেন যাচাই করছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্পনসরশিপ, মিডিয়া স্বত্ব এবং বাণিজ্যিক অংশীদারদের মাধ্যমে অর্থের প্রবাহ কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ফেডারেল তদন্তকারীদের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত এএফএর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নথি, আর্থিক তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
এই তদন্তের কোনো প্রভাব এখন পর্যন্ত মাঠের খেলায় পড়েনি। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের মধ্যেই এফবিআইয়ের এমন তদন্ত সামনে আসায় এএফএর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, করপোরেট সুশাসন এবং বাণিজ্যিক স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত বিষয়টি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে থাকবে।